খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২১

খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

জুবায়ের আহমেদ:

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার বিপরীতে দিন দিন কৃষি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য আমদানী করতে হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। বছরের প্রায় সময়েই অসাধু সিন্ডিকেট চক্রের মুনাফালোভী মানসিকতার কারনে চড়ামূল্যে পণ্যদ্রব্য কিনতে হয় যা স্বাভাবিক বাজার দরের চেয়েও দেড় থেকে দুইগুণ বাড়তিমূল্য হয়ে যায়। গত দুই বছরের মধ্যে পেঁয়াজ, আলু ও লবনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির ঘটনার পর এখন সকল পণ্যেরই মূল্য বৃদ্ধি হয়ে সাধারণ জনগনের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। করোনাকালীন সময়ে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির বিপরীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নেই কোন মাথাব্যথা, দাম কমার বিষয়েও সঠিক কোন তথ্য নেই কারো কাছে।

 

নিত্যপণ্যের মধ্যে ফার্মের ডিমের দাম গত জানুয়ারীতে ছিলো ডজন ৯৫-৯০ টাকা, বর্তমানে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২-১২৫ টাকায়। মসুর ডাল (বড় দানা) ছিলো ৬৫-৭০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮৮-৯০ টাকায়। সয়াবিন তেল (খোলা) কেজি ১২২-২৪ টাকা থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪২ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৩০-১৩৫ থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫৩-১৬০ টাকা। চিনি ৬৫-৭০ থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। আটা (প্যাকেট ও খোলা) ২৮-৩৩ থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকায়। ময়দা (প্যাকেট ও খোলা) ৩৩-৪৫ থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ টাকায়। গুড়া দুধ ৫০০-৬৩০ টাকা থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৯০-৭২০ টাকা। ফার্মের মুরগি ১১০-১২০ টাকা থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। সরু চাল ৫৮-৬৪ থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৮ টাকা। মোটা চাল ৪৪-৪৮ থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৫৫ টাকায়। দামের হিসেব কেজি প্রতি ও গত জানুয়ারীর দাম ও সেপ্টেম্বর মাসে বিক্রির দাম দেখানো হয়েছে। (তথ্যসূত্র-দৈনিক কালের কন্ঠ)। দোকানীরা করোনার প্রভাবে এবং পাইকারী ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশীয় বাজারে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে মর্মে দাবী করলেও করোনার ভয়াবহতার সময় কিংবা বিগত কয়েক মাস আগেও এমন পরিস্থিতি ছিলো না।

 

সরকারের কাছে মানুষের বহু প্রত্যাশার মধ্যে অন্যতম প্রত্যাশা হলো দ্রব্যমূল্যের স্বাভাবিক মূল্য বজায় রাখা। কিন্তু ভোক্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হতে দেখা যায়। যার ফলে বর্ধিত মূল্যে মাসের পর মাস পণ্য বিক্রি হলেও সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে না। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনে ভতুর্কি দিয়ে হলেও দেশের মানুষের পূর্ণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানী করার মতো খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের বিষয়ে আশানুরূপ কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় না। অথচ দেশব্যাপী লক্ষ লক্ষ বিঘা জমি পরে থাকে চাষহীন। কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্যের প্রত্যাশানুরূপ মূল্য না পেয়ে কৃষি কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যার কারনে কৃষি প্রধান দেশ হলেও বিদেশ নির্ভর হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

 

নাগরিক সমাজ নির্বাচনের সময়ে কিংবা সবসময়েই সরকারের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি যেনো না হয়, সে প্রত্যাশা করে। তেমনি সরকারও প্রতিশ্রæতি দেয় যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন তখন যেকোন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি বাংলাদেশে নিয়মিত ব্যাপার। যার মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় কোটি কোটি টাকা। সরকার ভর্তুকি দিয়ে চাল-ডাল-তেল বিক্রি করলেও এসব পণ্য দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ ব্যতীত ক্রয় করার সুযোগ হয় না কারো। উচ্চবিত্তরা যেকোন মূল্যেই পণ্যদ্রব্য খরিদ করতে পারলেও মধ্যবিত্তদের পরতে হয় বিপাকে। কেননা মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্ত মানুষের মতো রাস্তায় লাইন ধরে কমদামে সরকারী পণ্য ক্রয় করতে পারে না। ফলে অস্বাভাবিক বর্ধিত মূল্যে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় মধ্যবিত্তদের। আয়ের সাথে খরচের সামঞ্জস্য না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পতিত হয় হয়।

 

নাগরিকরা খাদ্যকষ্টে ভুগলে কিংবা খাদ্য দূর্ভোগে পতিত হলে এর দায়ভার সরকারের উপরই বর্তায়। কৃষি প্রধান দেশের নাগরিকরা অস্বাভাবিক মূল্যে কৃষি পণ্য ক্রয় করবে, তা কাম্য হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের দাবী মতে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি সত্যিই মূল্য বৃদ্ধি হয়ে থাকে তাহলে বিদেশী পণ্য আমদানী কমানোর জন্য কৃষিখাতে ভর্তুকি দিয়ে হলেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষকদের অনুপ্রান্বিত করে কৃষিপণ্য চাষে আগ্রহ বাড়াতে হবে। এছাড়াও অসাধু সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতিরোধ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের স্বাভাবিক মূল্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন, ঢাকা।

 

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!