রনির চোখে মুখে জাতীয় দলের স্বপ্ন

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

রনির চোখে মুখে জাতীয় দলের স্বপ্ন

স্বপ্ন ঘুড়ি প্রতিবেদক:ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ চট্টগ্রাম বিভাগের ক্রিকেটার রনি চৌধুরী। চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান রনির ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেটে অভিষেক হয় চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে। ২০১৯ সালের জাতীয় লীগ পর্যন্ত ৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে ২ উইকেট বেস্টে ৪ উইকেট শিকার করেন।

২০২১ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে খেলাঘরের হয়ে টি২০ ফরম্যাটে অভিষেক হয় রনির। তারকা ক্রিকেটারদের ভীড়ে ৩ ম্যাচ খেলা রনি চৌধুরী ২ উইকেট বেস্টে ৩ উইকেট শিকার করেন।

এর আগে ঢাকা প্রথম বিভাগে ২০১৫ সালে বল হাতে দূর্দান্ত খেলেই স্বীকৃত ক্রিকেটে পা রাখেন রনি। ধানমন্ডি প্রগতি সংঘের হয়ে সে বছর ৭ ম্যাচে মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট বেস্টে মোট ১২ উইকেট শিকার করেন রনি।

২০২০ সালের জাতীয় লীগের পূর্বে ফিটনেস টেস্টে ২০ তুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। করোনার কারনে ঘরোয়া লীগ অনিয়মিত হয়ে গেলেও আশার কথা শীঘ্রই মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় লীগ। আসন্ন জাতীয় লীগে নিজ জেলা/বিভাগীয় দল চট্টগ্রামের হয়ে খেলবেন তিনি।

প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। রনির স্বপ্নও ব্যতিক্রম নয়। ২৬ বছর বয়সী অফস্পিনার রনি চৌধুরী আসন্ন জাতীয় লীগে আলো ছড়ানো পারফর্ম করে নির্বাচকদের নজর কাড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এই প্রতিবেদকের সাথে। রনি চৌধুরী বলেন, স্বীকৃত ক্রিকেটে খেলছি ৫ বছর ধরে। গত দুই বছর করোনার কারনে আমাদের ডমেস্টিক ক্রিকেট ততটা না হলেও সর্বশেষ ঢাকা লীগ (টি২০ ফরম্যাট) সুষ্টু ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি সামনের জাতীয় লীগে বল হাতে ভালো কিছু করতে পারবো, সেভাবেই প্রস্তুত হচ্ছি। আমার সমসাময়িক অনেক ক্রিকেটারই জাতীয় দলে খেলছে। বল হাতে ভালো করে নির্বাচকদের একটা বার্তা দিতে চাই।

জাতীয় দলে তেমন অফস্পিনার নেই। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অনিয়মিত বোলিং করেন। সম্প্রতি টি২০ দলে নিয়মিত খেলছেন অফস্পিন অলরাউন্ডার মাহেদী হাসান। অফস্পিনার রনি চৌধুরী জাতীয় লীগে নিয়মিত একাদশে খেলার সুযোগ হলে নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য প্রস্তুত। নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে রনি চৌধুরী বলেন, জাতীয় লীগ করোনার কারনে স্থগিত হয়েছিল। পুনরায় মাঠে গড়ানোর খবর পাওয়ার পর থেকেই ফিটনেস নিয়ে কাজ শুরু করেছি। চট্টগ্রামে বোলিং অনুশীলন করছি নিয়মিত। সবমিলিয়ে নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

বাংলাদেশ দলে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পিনারদের ছড়াছড়ি। প্রত্যেক দলেই একাধিক স্পিনার থাকে। স্পিনারদের মধ্যে একটা অঘোষিত প্রতিযোগিতা থাকেই। নিজের সামর্থ্যকে জানান দেয়ার কতটুকু সুযোগ পাচ্ছেন, এমন প্রশ্নে রনি চৌধুরী জানান “আসলে বাংলাদেশে অনেক স্পিনার আছে। প্রত্যেক দলেই একাধিক স্পিনার থাকায় আমাদের মধ্যে একাদশে থাকা নিয়ে বেশ প্রতিযোগিতা হয়। যারাই সুযোগ পায়, নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করে। একাদশে সুযোগ করে নিতে পারলে দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করি সবসময়। সামনেও এর ব্যতিক্রম হবে না। প্রতিযোগিতার বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই নিজেকে মেলে ধরতে চাই”।


ক্রিকেটারদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বড় ব্যাপার। মানসিক সমস্যার কারনে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার বেন স্টোকস জাতীয় দল থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছেন। আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হলেও খেলার আগ্রহ দেখাননি তিনি। পুরোপুরি সুস্থ হয়েই ফিরবেন ক্রিকেটে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে ততটা জোর দেয়া না হলেও করোনাকালীন ক্রিকেটহীন সময়গুলোতে জাতীয় দলের বাহিরের ক্রিকেটাররা নিজ নিজ এলাকা ও নিজস্ব গন্ডিতেই থেকেছেন। রনি চৌধুরীর সময় কিভাবে কেটেছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ক্রিকেটের বাহিরের সময় বাসাতেই থাকি। ফিটনেস ও বোলিং অনুশীলনে সময় দেই। এছাড়া এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমে নিজের সাধ্যমত সহযোগিতা করতে চেষ্টা করি। এলাকার ছোট ছোট ছেলের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতেই পছন্দ করি”।

জাতীয় দলে খেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ের টার্গেট নিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নে রনি চৌধুরী জানান “প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে আসা সকলেরই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। আমি স্বীকৃত ক্রিকেট খেলছি ৫ বছর ধরে। নির্দিষ্ট কোন সময় ঠিক করা আসলে কঠিন। নিজের স্বপ্নের দিকে ধাপে ধাপে এগুচ্ছি। এতটুকুই বলতে পারি, ভালো খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে চাই, নিজের চেষ্টার পাশাপাশি সবার সমর্থন ও দোয়া পেলে অবশ্যই সফল হতে পারবো”।

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!