টেস্ট ক্রিকেটে ১২ দলের আগমন ও জয় পরাজয় সংখ্যা

প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

টেস্ট ক্রিকেটে ১২ দলের আগমন ও জয় পরাজয় সংখ্যা

জুবায়ের আহমেদ:

১৮৭৭ সালে সাদা পোষাকের টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রচলন শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে একে অপরের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রথম ম্যাচেই জয়লাভ করে অস্ট্রেলিয়া। তখন থেকে চলমান ভারত বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি ২৪১১তম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ।

 

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রচলন শুরু হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই দুই দল সবচেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। তবে একমাত্র দল হিসেবে এক হাজারেরও বেশি (১০৩২*) ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। ২য় সর্বোচ্চ ৮৩৪ ম্যাচ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া।

 

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ১৮৭৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার বিপরীতে ৩য় দল হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৮৮৯ সালে পা রাখে সাউথ আফ্রিকা। এই তিন দলকে নিয়ে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত চলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ১৯২৮ সালে ৪র্থ দল হিসেবে আগমন ঘটে উইন্ডিজের। ১৯৩০ সালে ৫ম দল হিসেবে আগমন ঘটে নিউজিল্যান্ডের। ১৯৩২ সালে ৬ষ্ঠ দল হিসেবে আগমন করে ভারতের। ১৯৫২ সালে ৭ম দল হিসেবে আগমন ঘটে পাকিস্তানের। অবশ্য ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার পূর্বে বর্তমান বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত মিলে এক দেশ থাকায় ভারতের হয়েই খেলতো সকলে। বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা, সাবেক ত্রিপুরার এক ক্রিকেটারও ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে তখন টেস্ট ক্রিকেট খেলেছে।

 

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ হওয়ার পর ১৯৫২ সালে পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটে ৭ম দল হিসেবে পা রাখে। ১৯৮২ সালে ৮ম দল হিসেবে আগমন ঘটে শ্রীলংকার। ১৯৯২ সালে ৯ম দল হিসেবে আগমন ঘটে জিম্বাবুয়ের এবং ২০০০ সালে ১০তম দল হিসেবে আগমন ঘটে বাংলাদেশের। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে পাকিস্তান দলে বাংলাদেশী ক্রিকেটার তথা পূর্ব পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা অবহেলিত ছিল। শুধুমাত্র রকিবুল হাসান দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন একটি টেস্ট ম্যাচে।

 

২০০০ সালে বাংলাদেশ ১০তম দল হিসেবে টেস্ট মর্যাদা লাভের পর পরবর্তী টেস্ট দল হিসেবে কেনিয়া সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকলেও দলটি এগিয়ে যাওয়ার বিপরীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই হারিয়ে যায়। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০১৯ সালে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড ১১-১২তম দল হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখে।

 

২০০৫ সালে বিশ্ব একাদশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সে ম্যাচে জয়লাভ করে অস্ট্রেলিয়া।

 

টেস্ট খেলুড়ে ১২ দলের ম্যাচ ও জয়-পরাজয় সংখ্যা-

১. ইংল্যান্ড ১০৩১ ম্যাচ খেলে ৩৭৭ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ৩০৫ ম্যাচ, ড্র হয় ৩৪৯ ম্যাচ।

২. অস্ট্রেলিয়া ৮৩৪ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ৩৯৪ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ২২৬ ম্যাচ, টাই ২ ম্যাচ, ড্র হয় ২১২ ম্যাচ।

৩. ভারত ৫৪৭ ম্যাচ খেলে ১৫৯ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ১৬৯ ম্যাচ, টাই ১ ম্যাচ, ড্র ২২৮ ম্যাচ।

৪. উইন্ডিজ ৫৫২ ম্যাচ খেলে ১৭৭ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ১৯৯ ম্যাচ, ১ ম্যাচ টাই, ড্র ১৭৫ ম্যাচ।

৫. নিউজিল্যান্ড ৪৪৬ ম্যাচ খেলে ১০৫ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ১৭৫ ম্যাচ, ড্র হয় ১৬৬ ম্যাচ।

৬. সাউথ আফ্রিকা ৪৪৩ ম্যাচ খেলে ১৬৭ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ১৫২ ম্যাচ, ড্র হয় ১২৪ ম্যাচ।

৭. পাকিস্তান ৪৩৫ ম্যাচ খেলে ১৪০ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ১৩৩ ম্যাচ, ড্র হয় ১৬২ ম্যাচ।

৮. শ্রীলংকা ২৯৩ ম্যাচ খেলে ৯২ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ১১৩ ম্যাচ, ড্র হয় ৮৮ ম্যাচ।

৯. বাংলাদেশ ১২১ ম্যাচ খেলে ১৪ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ৯১ ম্যাচ, ড্র হয় ১৬ ম্যাচ।

১০. জিম্বাবুয়ে ১১০ ম্যাচ খেলে ১২ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ৭০ ম্যাচ, ড্র হয় ২৮ ম্যাচ।

১১. আফগানিস্তান ৪ ম্যাচ খেলে ২ ম্যাচে জয়লাভ করে, পরাজয় ২ ম্যাচ।

১২. আয়ারল্যান্ড ৩ ম্যাচ খেলে ৩টিতেই পরাজয়বরণ করে।

১৩. বিশ্ব একাদশ ১টি টেস্ট ম্যাচ খেলে পরাজয়বরণ করে।

(ইংল্যান্ড বনাম ভারতের মধ্যকার চলমান ম্যাচ ব্যতীত দুই দলের হিসাব করা হয়েছে)

 

ইংল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ২০০ ম্যাচ কম খেলেও সর্বোচ্চ ৩৯৪ ম্যাচে জয় অস্ট্রেলিয়ার। ২য় সর্বোচ্চ ৩৭৭ ম্যাচে জয় ইংল্যান্ডের। ৩য় সর্বোচ্চ ১৭৭ ম্যাচে জয় উইন্ডিজের, ৪র্থ সর্বোচ্চ ১৬৭ ম্যাচে জয় আফ্রিকার। ৫ম সর্বোচ্চ ১৫৯ ম্যাচে জয় ভারতের। ৬ষ্ঠ সর্বোচ্চ ১৪০ ম্যাচে জয় পাকিস্তানের। ৭ম সর্বোচ্চ ১০৫ ম্যাচে জয় নিউজিল্যান্ডের। ৮ম সর্বোচ্চ ৯২ ম্যাচে জয় শ্রীলংকার। ৯ম সর্বোচ্চ ১৪ ম্যাচে জয় বাংলাদেশের। ১০তম সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচে জয় জিম্বাবুয়ের। ১১তম সর্বোচ্চ ২ ম্যাচে জয় আফগানিস্তানের। আয়ারল্যান্ড একমাত্র দল হিসেবে এখনো জয় পায়নি।

 

টেস্ট খেলুড়ে নতুন দুই দল আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড ব্যতীত অপর ১০ দলের মধ্যে জয়ের হার সবচেয়ে বেশি ৪৭.২৪ অস্ট্রেলিয়ার। সবেচেয়ে কম জিম্বাবুয়ে ১০.৯। ২য় সর্বনিম্ন ১১.৫৭ বাংলাদেশের। ৩য় সর্বনিম্ন ২৩.৫৪ নিউজিল্যান্ডের।

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!