পথশিশুদের দুরাবস্থা কে দূর করবে?

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

পথশিশুদের দুরাবস্থা কে দূর করবে?

মো: শাকিল আহম্মেদ:

প্রতিটা শিশুই হাজারও সম্ভাবনা নিয়ে এই যান্ত্রিক পৃথিবীর বুকে ভূমিষ্ঠ হয়। স্রষ্টাপ্রদত্ত জন্ম-মৃত্যুর ভেদরেখায় ঠিক একই নিয়মেই জন্ম হয় পৃথিবীর প্রত্যেকটা শিশু। সমান রক্ত, মাংশে গড়া এই প্রতিটা হৃদয় পরিবার, সমাজ, বর্ণ গুণে নিজের অজান্তেই পায় ছোট বড় ব্যাক্তিগত পরিচয়। পারিবারিক বিপর্যয়, সামাজিক বিচ্যুতি আর নানা বৈষম্যে কারো বা পরিচয় হয় পথশিশু নামে। যাদের মধ্যে অনেকের বাবা নেই, অনেকের মা নেই অথবা কারো নেই দু’জনের একজনও। কপাল গুণে অনেকেরই জানা নেই নিজের জন্মদাতা কিংবা জন্মদাত্রীর ন্যূনতম পরিচয়। বিভিন্ন সময়ে বিচিত্র কারণে এই শিশুরাই বাস্তুভূমি হারিয়ে নিঃস্ব হয় পরিবার কিংবা বাবা-মায়ের ব্যাক্তিগত জটিলতায়।

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (BIDS) এর এক জরিপে উঠে এসেছে , শুধু রাজধানীতেই পথশিশুর সংখ্যাটাই ৪ লক্ষ ৫০ হাজারেও বেশি। তাদের অধিকাংশদেরই থাকার জন্য নেই নির্দিষ্ট কোনো জায়গা। আশেপাশের অস্বাস্থ্যকর, অনিরাপদ রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, পার্ক, ফুটপাত কিংবা খোলা আকাশের নিচে চরম অনিরাপদে তাদের রাত কাটে।

 

নানা জটিলতায় সাধারণ আট দশটা শিশুদের মত তাদের জীবন অতটা সহজ নয়। জন্মের পর থেকেই বেঁচে থাকার তাগিদে তারা জড়িয়ে পড়ে জীবন যুদ্ধে। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা নিরুপায় হয়ে জীবিকার তাগিদে ঘু্রে বেড়ায় মানুষের দ্বারে দ্বারে , হাত পাতে খাদ্য কিংবা সহানুভূতি পাওয়ার আশায়। দিনভর তারা পথে পথে ঘুরে বেড়ায় বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের খোঁজে। সময়-অসময়ে খেয়ে না খেয়েই বেড়ে যায় তাদের জীবনের বয়স। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মূল্যায়ন হবার বিপরীতে তাদের জীবন কেটে যায় পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের হেলা অবহেলাতেই।

 

সেই আদিকাল থেকেই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এই শিশুরা পদে পদে শিকার হচ্ছে অবজ্ঞা, অবহেলার। সঠিক পরিচর্চা, সেবা, সহযোগিতার অভাবে তাদের দ্বারা হরহামেশাই সংঘটিত হয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। নিরুপায় সুবিধাবঞ্চিত এই পথশিশুরা জীবন রক্ষায় সঙ্গ দেয় ভালো-মন্দ উভয় ধরনের কাজে।

 

ছোট্ট খোকার যে বয়সে মায়ের মুখে রূপকথার গল্প শুনে অবাক বিস্ময়ে চমকে যাওয়ার কথা, খাতার পুরোটা জায়গা জুড়ে যেখানে থাকার কথা কাঁচা হাতের এলোমেলো চিত্রশিল্প,সেখানে এই পথশিশুরাই রাস্তায় রাস্তায় খুঁজে বেড়ায় পথের ধারে পড়ে থাকা অব্যবহৃত প্লাস্টিক, এধার- ওধারে বিক্রি করে বেড়ায় পত্র-পত্রিকা, ফুল কিংবা নিত্যদিনকার ব্যবহার্য পণ্য সামগ্রী।

 

অন্য আট-দশটা শিশুর মতোই বই নিয়ে তাদের স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন আজন্মই রয়ে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। তাদের জীবনযুদ্ধ আমাদের মতো অতটা সহজ নয়। সুতরাং তাদের সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে এসব সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের পাশে দাঁড়াই, পূরণ করি তাদের ছোট বড় প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা। প্রত্যাশা,প্রাপ্তি ও শিক্ষা-দিক্ষায় মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় তাদের সুস্থ স্বাভাবিক সুনাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা সৃষ্টি করি,তাহলেই আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়ন যথাযথ হবে।

 

শিক্ষার্থী,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!