সোহানের আক্ষেপ, সোহানকে নিয়ে আক্ষেপ

প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১

সোহানের আক্ষেপ, সোহানকে নিয়ে আক্ষেপ

জুবায়ের আহমেদ

জাতীয় দলের উইকেটকিপার বাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। জাতীয় দলের হয়ে ২০১৬ সালে খেলা শুরু করা সোহান এখন পর্যন্ত নিয়মিত হতে না পারলেও উইকেটের পেছনে গøাভস হাতে সোহান দূর্দান্ত নৈপুণ্যের কারনে উইকেটকিপার হিসেবে সোহানকে দেশসেরা মনে করা হয়। তবে ব্যাটিংয়ে সোহান পারদর্শী নয়, এমনটাও থাকে আলোচনায়।

 

মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে দলের সেরা ব্যাটসম্যান বিধায় উইকেটকিপিংটা তিনিই করছেন। পাশাপাশি লিটন দাশ নিয়মিত হওয়ায় এবং মোহাম্মদ মিথুনও দলে থাকায় জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না সোহান। সুযোগ করে দেওয়াটাও কঠিন নির্বাচকদের জন্য। কেননা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিক তিন ফরম্যাটেই পারফর্মার হওয়ায় এবং লিটন দাশও তিনফরম্যাটে নিয়মিত হওয়ায় সেখানে তৃতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান দলে রাখাটা খুব কঠিন। তার মধ্যে মিথুন দলে থাকলেও ম্যাচ পাচ্ছেন না নিয়মিত।

 

ভারতে ধোনীর আগেই অভিষেক হয়েছিল পার্থিব প্যাটেলের। দিনেশ কার্তিকও ধোনীর সমসাময়িক প্লেয়ার ছিলো। কিন্তু ধোনীর ছায়া হয়ে পুরো ক্যারিয়ার পার করতে হয়েছে কার্তিক ও পার্থিবকে। শেষে ৩৬ বছর বয়সেই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন পার্থিব।

 

ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া বহু দেশে উইকেটকিপার কিংবা স্পিনার হিসেবে দূর্দান্ত অনেক ক্রিকেটার দলের নিয়মিত স্পিনার ও উইকেটকিপারের ছায়া হয়ে খেলেই ক্যারিয়ার শেষ করতে হয়েছে। ক্রিকেটে এসব ঘটনা স্বাভাবিকের মতোই, যদিও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের জন্য সুখকর নয় বিষয়টি।

 

জাতীয় দলের হয়ে সোহান খেলা শুরু করেন ২০১৬ সালের শেষের দিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। অভিষেক ম্যাচে ৩১ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলার পর ২য় ম্যাচে খেলেন ৩৯ বলে ৪৪ রানের ইনিংস। দুই ম্যাচের হিসেবে দূর্দান্ত হলেও তৃতীয় সুযোগটি আর পাননি সোহান।

 

অবশ্য একই সিরিজে ২০১৭ সালের জানুয়ারীতে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে অভিষেক ইনিংসে ৪৭ রান করার পর ২য় ইনিংসে ২ বলে শুণ্যে ফেরেন। তারপর দীর্ঘ দেড় বছর বিরতি দিয়ে ২০১৮ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ২য় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪ রানে ফেরার পর ২য় ইনিংসে খেলেন ৭৪ বলে ৬৪ রানের ইনিংস। ৬৪ রানের ইনিংস খেলার পথে ফিফটি করেছিলেন মাত্র ৩৬ বলে। সিরিজের ২য় টেস্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিপরীতে দুই ইনিংসেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। তারপর আর সুযোগ হয়নি টেস্ট দলে।

 

টেস্ট ও ওয়ানডের তুলনায় অবশ্য টি২০ ম্যাচে বেশ সুযোগ পান সোহান। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৯টি টি২০ ম্যাচ খেলে ৩০ রান বেস্টে ৭৮ রান করেন। ৯ ইনিংসের ৮টিতে ব্যাট করে ৪ ইনিংসেই অপরাজিত থাকেন। আউট হন ৪ ইনিংসে। ক্যারিয়ার সেরা ৩০ রানের ইনিংসটি ছিলো মাত্র ১৭ বলে।

 

২০১৭ সালের পর আর সুযোগ আসেনি সোহানের। সম্প্রতি উইন্ডিজ সিরিজের প্রাথমিক টেস্ট দলে থাকলেও মূল দলে জায়গা হয়নি সোহানের। ২০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ১৮ জন সুযোগ পেলেও বাদ পরেছেন সোহান ও খালেদ আহমেদ। বাদ পরার পর সোহানের আক্ষেপ ছিলো লক্ষ্য করার মতো। “অলরাউন্ডার”কে সোহান বলেছেন, আমার মতো সোহানদের মন খারাপ করতে নেই, সুযোগটা কমই আসবে, সবার সুযোগ এক হয় না। সুযোগ পেলেই যেনো কাজে লাগাতে পারেন তার জন্য পরিশ্রম করছেন।

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরুর দিকে বোলার বা ব্যাটসম্যানের মতো উইকেটকিপারও বিশেষজ্ঞ হতো অর্থাৎ একজন ক্রিকেটার শুধুমাত্র ভালো উইকেটকিপার হলেই হতো। ব্যাটিং না জানা অনেক উইকেটকিপার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন, যারা ব্যাটিং করেছেন বোলারদের জায়গায়। তবে ধীরে ধীরে উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যান জমানায় প্রবেশ করে ক্রিকেট, যেখানে ব্যাটিংয়েও পারদর্শী হতে হয়।

 

সোহানের ব্যাটিং ততটা মন্দ নয়। ঝড়ো ব্যাট করার সামর্থ্য আছে সোহানের। তা প্রমাণও করেছেন। তবে নিয়মিত জায়গা না পাওয়ার বড় কারণ মুশফিকের পাশাপাশি ট্যালেন্ট ব্যাটসম্যান লিটনের জায়গা পাকাপোক্ত হয়ে যাওয়া। দুজনকে টপকে কিংবা দুজনের পাশাপাশি একাদশে জায়গা করে নেওয়াটা কঠিনই।

 

উইকেটকিপিংয়ে দূর্দান্ত সামর্থ্যরে কারনে সোহানকে জাতীয় দলে চায় ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট অনেকেই। সমর্থকদের অনেকেও সোহানকে দলে দেখতে চায়। কিন্তু দুই উইকেটকিপার দলে থাকার বিপরীতে সোহানের সামনে আসা সুযোগ গুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারাটাই সোহানকে দল থেকে ছিটকে দেয়ার বড় কারণ। উইকেটকিপিংয়ে সামর্থ্যবান সোহান দলে থাকার যোগ্য হলেও বলা যায় ভুল সময়েই বাংলাদেশ ক্রিকেটে পা রেখেছেন। যে সময়টা শুধুই মুশফিক-লিটনের।

 

সোহানের বর্তমান বয়স ২৭। আরো ১০ বছর অনাসায়েই ক্রিকেট খেলতে পারবেন। পারফর্ম করে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে পারলে জাতীয় দলে সুযোগ আসবেই। আর জাতীয় দলে সুযোগ করে নিয়ে একাদশে জায়গা পেলে জ্বলে উঠার মাধ্যমেই দলে থিতু হতে হবে।