বাঁচবে কৃষক, বাঁচবে দেশ!

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

বাঁচবে কৃষক, বাঁচবে দেশ!

তাসফীর ইসলাম (ইমরান):

 

তোমরা নাকি কৃষিপ্রধান দেশ
ভোটের আগে বললে হেসে
আমার চাষী ভাত পায় না
মুক্তি খোঁজে ইঁদুর বিষে

কিন্তু যেনো মন্ত্রী রাজা
তুমিই খুনী, তুমিই খুনী
আঁধার যখন ঘনিয়ে আসে
আগুন জ্বালো আন্দোলনই

 

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ।
এদেশের ৮০% মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। এদেশের জমি বেশ উর্বর এবং চাষ করার জন্য অনেক ভালো। মূলত কৃষিকাজের মাধ্যমে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে বলেই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।

 

কারন, এই দেশের ফসলি জমি খুব বেশি উর্বর। একি জমিতে বার বার চাষ করা সম্ভব। এছাড়া এই দেশে ধান চাষ করা হয় খুব বেশি।

 

বাংলাদেশের অধিকাংশ ভূমিই সমতল যার কারনে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে সম্পর্কিত। এই কারনে বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।

 

কৃষি উন্নতির মাধ্যমেই দেশ থেকে বিদেশে অনেক কিছু রপ্তানি করে থাকে। যারা কৃষি কাজ করে থাকে আমরা তাদের কৃষক বলে থাকি। এখন আমাদের দেশের সেই সোনা নামক কৃষকরাই যদি বেঁচে না থাকে তাহলে কৃষিকাজ করবে কারা?

 

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির পরবর্তি অবস্থায় একমাত্র কৃষি সম্পদের উপর নির্ভর হবে বাংলাদেশ সেই কৃষি বা কৃষকদের অবমূল্যায়নের কমতি নেই এদেশে।

 

সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের মত মহামারীতে ভুগছে তখন করোনা পরিস্থিতির পরবর্তিতে যার যার দেশের উৎপাদন পন্য নিয়েই ঘুরে দাড়াতে হবে। যেখানে বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ, এদেশের শতকরা প্রায় ৮০% ভাগ লোক কৃষির সাথে সরাসরি জড়িত। কিন্তুু এই কৃষি এবং কৃষকদের অবহেলা আর অব্যবস্থাপনায় আজ অনেকেই কৃষি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুকছে।

 

করোনা ভাইরাসের কারণে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে তাতে বিশ্ব অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতিসাধন হবে এবং বিশ্বব্যাপী ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়ার সম্বাবনা রয়েছে।

 

দেশের মানুষ করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এটা যেমন সত্য, তার থেকে বড় সত্য হচ্ছে মানুষ ভবিষ্যৎ খাদ্য সঙ্কট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

 

বাজারের সবজির দাম হচ্ছে নাগালের বাহিরে। কিছুদিন আগে পেয়াজ ছিলো ৩০০ টাকার মতো। এখন যে কম তাও কিন্তু নয়। সাধারন মানুষের কিনে খেতে পারে। কিন্তু নিম্নবিত্তদের নাগালের বাহিরে। মরিচের কেজি এখনও ৩০০ টাকা কেজি। বাজারের কথা বলে কি হবে? দেশে পরিমান মত উৎপাদন না হলে দাম তো বেশি থাকবেই।

 

বাজারে দেখা যায়, পেয়াজ ৫০ টাকা কেজি হলে রোশন ২৫০ হয়ে যায়। আবার চাল ৫০ টাকা হলে ডাল ১০০ টাকার বেশি হয়ে যায়। কোনো কিছুই সাধারন জনগনের নাগালের মধ্যে থাকে না। হতদরিদ্র মানুষদের না খেয়ে জীবন যাপন করতে হয়।

 

এ বছর বিগত বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমান বন্যা হয়ে থাকে। যার কারনে কৃষকের অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু কৃষক কৃষিকাজই ছেড়ে দিয়েছে।.

তারা পারছে না। বন্যায় তাদের সবকিছু নিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় কোনো মন্ত্রী রাজারাই তাদের পাশে দাড়ায়নি। এসকল কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে সর্বসাধারণ মানুষদের এখনি রুখে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়।

 

দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। হতাশ কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে নিজ ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন।

 

চাষির পেটে মারছো লাথি
ভাবছো এসব মকুব হবে?
সাতটা বছর বেকার যারা
প্রশ্ন তো এই করলো সবে

তাইতো তুমও ভীষন ভয়ে
মুখ লুকিয়ে দিব্যি ফেরার
জলকামানে আর কত জল?
এখন সময় হিসেব নেওয়ার

 

যে সকল নেতারা ভোটের আগের অসহায় মানুষের সেবায় সেবক হয়ে যায় সেসকল নেতাদের প্রতি সরকারের আইনানুগ ব্যাবস্তা নেয়া উচিত। কারন তারা নেতা হবার পরে জনগনকে ভুলে যায়।

 

এটা ভুলে গেলে চলবে না।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশ উন্নয়নের একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে কৃষি। একটা কথা মনে রাখতে হবে সবাইকে ভাতের পাতিল গাছের মাথায় রেখে গোড়ায় বসে যতই আগুল ধরিয়ে জাল দেই না কেনো কখনোই চাল ভাতে রূপান্তরিত হবে না। তথাপি দেশের উন্নয়ন করতে হলে আগে কৃষকদের উন্নতি ঘটাতে হবে। দেশ উন্নয়নের পিছনে কৃষকদের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।

 

একজন কৃষক যে কতটা কষ্ট করে সেটা একমাত্র ঐ কৃষক ই জানে।

 

আমি কষ্টের কৃষক, করি কষ্টের আবাদ
কর্ষিত জমির সমতলে যে ফসল ফলে
তার দানায় দানায়
লেগে রয়েছে আমার হাত,
ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যাবেলা
জল ঢালি আগাছা নিড়াই সযতনে
নীল নীল গাছগুলোয় হাওয়ায়
লাগে দোলা,
স্বপ্ন দেখি কষ্ট বেচে পকেট
ভরি জামার
কষ্ট আমার রক্ষাকবচ, কষ্টই তো সুখ
জলাঞ্জলি দিয়ে বাকি সব সাজাই শুধু খামার,
বিরামহীন দিনকেদিন একাই
আমি খাটি বৃষ্টি ভিজি, রোদে পুড়ি, হই আমি কালো
কি এসে যায় তাতে
আমি সাধন করি মাটি।
আমি কৃষক মানুষ, পেশায় হয়তো খাটো,
দাম না পেলেও আপত্তি নেই মোটও
ফসল তো খাঁটি, আমি যেমনতেমন লোক
আমার না হয় তবু ফসলের দাম হোক
বসে থাকি কেউ তা কিনুক ন্যায্য
দামে
তবে সৌরভ ছড়াতো আমার পরিশ্রমের
ঘামে

 

আসুন সবাই কৃষকদের পাশে দাড়াই।
সবাই মনে রাখবেন-
বাঁচবে কৃষক, বাঁচবে দেশ!

আমরা কৃষি প্রধান দেশ

 

 

শিক্ষার্থীঃ সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং, বাসাই 
imran187619@gmail.com