সালাতে পূর্ণ মনোযোগের কৌশল

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

সালাতে পূর্ণ মনোযোগের কৌশল

আতিক আল মাসউদ:

 

 

সালাত এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্যে গ্রহন করা সম্ভব হয়। এই ইবাদত, আল্লাহর সাথে কথা বলার অনন্য একটি মাধ্যম। মুমিন জীবনের অন্যতম একটি ইবাদত হলো সালাত।ইসলামের প্রথম স্তম্ভ সালাত। এবং, কেয়ামতের দিন সর্ব প্রথম বিচার ফয়সালা হবে সালাতের মাধ্যমে। রাসুল(সাঃ)বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব হইবে’। (তিরমিজি) দৈনন্দিন জীবনে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে বিঘ্নতা,অলসতা, ও নানা ধরনের চিন্তার সম্মুখীন হতে হয়। এর প্রধান কারন হলো সালাতে একনিষ্ঠতা, মনোযোগ না থাকা। একনিষ্ঠ ছাড়া সালাত কখনো আল্লাহ কবুল করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমারা একনিষ্ঠতার সাথে আমার ইবাদত কর।” (সুরা বাইয়্যিনা০৫)

 

 

 

সালাতে পূর্নাঙ্গ মনোযোগ সাধনে পাঁচটি কৌশল রয়েছে। প্রথম কৌশল হলো, অন্তরের মধ্যে এই অনুভব করা এটা শেষ নামাজ। মৃত্যু এমন একটি বিষয়ের যা কখন আসে বলা যায় না৷ দুনিয়া এখন গ্লোবাল ভিলেজের মাধ্যমে হাতের মুঠোয়, কিন্তু মৃত্যু এর বাহিরের একটি অজানা,অধরা বিষয়। সালাতে যখন দাঁড়াবে তখন এটা অনুভব করতে হবে এটাই বিদায়ী নামাজ। রাসুল (সাঃ) বলেছেন , ‘যখন তুমি সালাতে দাঁড়াও তখন তুমি বিদায়ী সালাত পড়।’ (মুসনাদে আহমদ) হতে পারে এটি জীবনের শেষ নামাজ।

 

 

সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির দ্বিতীয় কৌশল হলো, এই অনুভব করা সালাত হলো আল্লাহর সাথে বান্দার  কথোপকথনের মাধ্যম। সালাতের মাধ্যমে গোলাম ও মনিবের মাঝে কথা বলা যায়। যদিও সেটা আমাদের কর্ণদয়ে শ্রবন হয় না, তবুও এই মনোভাব ধারণ করতে হবে অন্তর দ্বারা আমরা কথা বলতেছি। আল্লাহ তায়ালা বলেন , ‘বান্দা যখন নামাজ পড়ে তখন তা আমি আধা-আধি ভাগ করি। এবং তার কথার উত্তর দিয়ে থাকি।’ (বুখারী) বান্ধা যখন বলে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই বিশ্বজগতের মালিক। তখন আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার প্রশংসা আদায় করেছে। এইভাবে প্রতিটি কথার উত্তর দিয়ে থাকে। এই অনুভবটা অন্তরের মাধ্যে লালন করতে পারলে নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি হবে।

 

 

সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির তৃতীয় কৌশল হলো , ধীরস্থির হয়ে সালাত আদায় করা। সালাত মুমিনজীবনে সবরের(ধৈর্য)   শিক্ষা দেয়। নম্র, ভদ্র হয়ে বিনয়ের সাথে আদায় করতে হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “মুমিনগণ তাদের সালাতে বিনয়ী অবলম্বন করে।” (সুরা মুমিনুন-০২) যত্নসহকারে সালাত আদায় না করলে সালাতে মনোযোগ সাধন হবে না। কেরাত, রুকু ও সেজদায় ধীরস্থিরতা অবলম্বন করতে হবে। রাসুল (সাঃ) বলেছেন , ‘লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চোর ঐই ব্যক্তি যে, ধীরস্থির ভাবে নামাজ পড়ে না, ও রুকু সেজদায় দেরি করে না।'(তীবরানি)  তাসবীহ্ তাহলিল গুলো অর্থসহ জানার মাধ্যমে ধীরস্থির সূলভ সালাত আদায় করতে হবে। যার ফলে মনোযোগ অন্যদিকে ঝুঁকে পড়ার সুযোগ থাকবেনা।

 

 

 

সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির চতুর্থ কৌশল হলো, এই অনুভব করা আমি আল্লাহর সাথে দেখা করছি। আল্লাহ তায়ালা সার্বক্ষণিক আমাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন, কিন্তু দুনিয়ার কোনো চর্মচক্ষু দ্বারা তাকে প্রত্যক্ষ করা সম্ভব না। সালাতের ক্ষেত্রে রাসুল (সাঃ)  বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এমনভাবে,  যেন তাঁকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখছেন।’ (বুখারি, মুসলিম) আল্লাহর সামনে যখন মাথানত করতে হয় তখন এই ভয়ে করতে হবে তিনি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন। পৃথিবীর সকল চোখ ডিঙ্গিয়ে দেওয়া যায় কিন্তু আল্লাহর চোখ কখন ডিঙ্গানো সম্ভব না। বান্দা যখন সেজদা দেয় তখন, আল্লাহর কুদরতি পায়ের উপরে দেয়। সুতরাং এই ক্ষেত্রে খুবই সজাগ থাকতে হবে। এই অনুভব লালন করতে পারলে ভয় বৃদ্ধি পাবে ও পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ সাধন হবে।

 

 

 

সালাতে মনোযোগ বৃদ্ধির সর্বশেষ কৌশল হলো, পূর্ববর্তী লোকদের থেকে শিক্ষা গ্রহন করা। পূর্ববর্তী লোক হলো, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তবেতাবেঈন, ও বিশিষ্ট ইসলামি স্কলারগন। কারণ তারা সর্বত্র আল্লাহকে বেশি ভয় করে। এবং তাদের ইজমার ভিত্তিতে অসংখ্য মাসয়ালার সমাধান হয়ে থাকে। রাসুল(সাঃ)  যেভাবে নামাজ পড়তেন সাহাবায় কেরাম নিজ চোক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাদের থেকে ধারাবাহিক ভাবে আলেমগন শিক্ষা লাভ করেছে। তাদের এই শিক্ষার আলোকে দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করতে পারলে খুশু, বিনয়ীভাব,ও পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ লাভ সম্ভব হবে। তাই আমাদের সকলের উচিত উপরোক্ত পাঁচটি কৌশল দৈনন্দিন প্রেকটিস করা। এরই মাধ্যমে মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে আশা রাখি।

 

 

শিক্ষার্থী,

আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসা।

মিরসরাই, চট্টগ্রাম,

 

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!