মোবাইলে অর্থ লেনদেনে প্রতারনা: সতর্কতা জরুরী

প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

মোবাইলে অর্থ লেনদেনে প্রতারনা: সতর্কতা জরুরী

জুবায়ের আহমেদ:

এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব, আর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় বাংলাদেশ। এক সময় যেসব কাজ করতে আমাদের বেশ দূর্ভোগ পোহাতে হতো এবং অনেক সময় লাগতো, সেসব কাজ এখন প্রযুক্তির কল্যাণে সহজেই করা যায়। এক সময় টাকা লেনদেন করার মাধ্যম ছিলো ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও হাতে হাতে। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বহু কাজ সহজ হওয়ার মধ্যে অন্যতম ডিজিটাল লেনদেন। এখন আর শহর থেকে গ্রামের বাড়ীতে কিংবা দ্রæত প্রয়োজনে যেকোন জায়গায় টাকা পাঠাতে কোন ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয় না। ঘরে বসে সহজেই ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা লেনদেন করা যায়।

 

ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বেশ নিরাপদ। প্রযুক্তির সহায়তায় এই লেনদেনকে আরো সহজ ও গ্রাহক বান্ধব করতে বেশ কয়েকটি ব্যাংক ঘরে বসেই ডিজিটাল লেনদেনের জন্য বিকাশ, রকেট, ইউ-ক্যাশ, ডাক বিভাগের নগদ সহ ডিজিটাল লেনদেনের আরো কয়েকটি মাধ্যম তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গ্রাহকরা তাদের সুবিধামতো স্মার্ট ফোন কিংবা সাধারণ ফোন দিয়েও লেনদেন করতে পারছে সহজেই। তবে ঘরে বসে থেকে অর্থ লেনদেন করতে পারলেও প্রতিবন্ধকতাও কম নয়। এক শ্রেণীর প্রতারক সব সময়ই উৎপেতে থাকে প্রতারনা করার জন্য। পৃথিবীতে মানুষের কল্যাণের জন্য যত প্রযুক্তিই আবিষ্কার হোক না কেনো। তার অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ফায়দা হাসিলের লোকের সংখ্যাও কম নয়।

 

এক সময় মানুষ দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যাংক, ডাক বিভাগ এবং পরিচিত মানুষের মাধ্যমে হাতেহাতে অর্থ দেওয়া নেওয়া করতো। তখনকার সময়ে ব্যাংকে নগদ অর্থ নিয়ে গমন কিংবা ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ নিয়ে ফেরার সময় ব্যাংকেই প্রতারকদের খপ্পরে পরে অর্থ হারানোর অহরহ ঘটনা ঘটতো। সেই সাথে ব্যাংক থেকে বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়ও প্রতারনার শিকার হতে হতে হয়। তবে ঘরে, ব্যবসা কেন্দ্রে কিংবা যেকোন জায়গা থেকেই মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন করার সুবিধা থাকায় নগদ অর্থ লেনদেনের ঝামেলা কমে গেলেও ডিজিটাল প্রতারকদের ফাঁদ থেকে মুক্ত থাকাও বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে নাম্বার ভুল করে অন্যত্র টাকা পাঠিয়ে দিয়ে ঝামেলা পোহানোর ঘটনাও কম নয়।

 

ডিজিটাল প্রতারকরা এতোই ধুরন্ধর যে, এরা মিষ্টি মধুর কথা বলে বিশ্বাস জন্মায়। তাদের কথায় এতোটাই মোহাবিষ্ট করে যে, বিশ্বাস করে তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারানোর বহু ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। সেই সাথে আশে পাশে থাকা প্রতারকরা যাকে ফাঁদে ফেলতে চান, তার পরিবারের কোন সদস্যদের সমস্যা, অসুস্থতা কিংবা দূর্ঘটনার কথা বলে টাকা চাওয়া এবং ভুলে টাকা চলে এসেছে, দ্রæত পাঠিয়ে দিন মর্মে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে একটা ঘোরে ফেলে দিয়ে টাকা আদায় করছে একটি চক্র। বিশেষ করে মহিলাদের সাথে এই ধরনের প্রতারনার ঘটনা ঘটছে গ্রাম কিংবা শহরেও। সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস থেকে ফোন করেছে বলে মিথ্যা কথা বলে পিন নাম্বার চাওয়া, ব্যালেন্স কত আছে জানতে চাওয়া সহ নানা উপায়ে প্রতারনা করে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও এই বিষয়ে গ্রাহকদের সাবধান করে দেয় যে, প্রতিষ্ঠান থেকে কখনোই গ্রাহকের পিন নাম্বার কিংবা ব্যাংলেন্স জানতে চাওয়া হয় না, এগুলো স্পষ্টত প্রতারকদের কাজ।

 

সময়ের বিবর্তনে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সবকিছুই আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসছে। এসব প্রযুক্তির যেমন ইতিবাচক ব্যবহার আছে। তেমনি দুষ্ট লোকেরা প্রযুক্তির অব্যবহার করা সহ মানুষের সাথে প্রতারনার জন্য ফাঁদ পেতে বসে থাকছে। প্রযুক্তির উন্নতির পূর্বে তাদের প্রতারনার ধরণ ছিলো এক রকম, প্রযুক্তির উন্নতির পর তাদের প্রতারণার ধরণেও এসেছে পরিবর্তন। মনে রাখতে হবে প্রতারিত হয়ে গেলে প্রতারকদের থেকে টাকা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতারকদের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার পূর্বেই সচেতন হতে হবে। কাউকে টাকা পাঠানোর সময় নাম্বার সঠিক হয়েছে কিনা তা একাধিকবার দেখে নিতে হবে। তেমনি ভাবে কাউকে নাম্বার দেওয়ার সময় সঠিক নাম্বার দেয়া হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, যখন কেউ ফোন করে পিন নাম্বার চায় কিংবা টাকা চলে এসেছে, ফেরত দিন বলে, তখন সাথে সাথেই ফোন কেটে দিয়ে নিজের ব্যালেন্স চেক করে এবং যারা ভালো বুঝে এই বিষয়ে, তাদের পরামর্শ নিয়ে তারপর টাকা ফেরত প্রদান কিংবা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একটু সাবধানতা অবলম্বনেই প্রতারনা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম,
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবান, ঢাকা।

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!