মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২১

মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য

মুন্সী মুহাম্মদ জুয়েল:

 

 

সন্তান-সন্ততি হচ্ছে মাতা-পিতার কাছে সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মা-বাবা তাদের জীবন-যৌবন সকল কিছু ত্যাগ করে দেয় শুধু মাত্র সন্তান-সন্ততিদের মঙ্গলের জন্য। মা তার জীবন বাজি রেখে সন্তান জন্ম দেয়, আর বাবা সন্তানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দেয়। অথচ সেই সোনার সন্তানেরা আজ সেই মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে আসে, পাটিতে মুড়িয়ে জঙ্গলে ফেলে আসে, রাস্তায় বের করে দেয়, জালিয়াতি করে বাবার সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে বাবাকে গৃহত্যাগ করায়, প্রেমজনিত ঘটনার কারনে বাবা-মা দুজনকেই হত্যা করে, বাইক কিনে না দেয়ায় বাবাকে জবাই করে দেয়ার ঘটনা হর-হামেশাই পত্রিকার পাতা গুলোকে পর্যন্ত ভাবিয়ে তোলে। শিহরিত করে পত্রিকার উপর দৃষ্টিপাত করা সেই দুটি চোখকে।

 

 

 

‘মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য’ বিষয়টি এখন শুধুমাত্র ‘বাংলা ২য় পত্র’ রচনার সূচিপত্র আর পৃষ্ঠাতেই আবদ্ধ। মা-বাবা’র সেই সোনার সন্তানেরা বাল্যকালে চিৎকার করে করে ‘মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য’ রচনাটি মুখস্থ করে আর অন্যদিকে মা-বাবা ভাবে সন্তান বড় হয়ে তাদের এভাবেই যত্ন করবে। আফসোস বাস্তবে ঘটে ঠিক এর উল্টোটা। যদি বাবা-মা জানতো যে তাদের সন্তানেরা ভবিষ্যতে এইধরনের দুর্ব্যবহার করবে বা হত্যা করার জন্য উদ্ধত হবে তাহলে কোন বাবা-মা’ই আর কখনো সন্তান জন্মদানের কথা চিন্তাও করবে না।

 

 

 

উপসংহারে বলা যায়, যদি অতিশীঘ্র সন্তান-সন্ততিদের এই নিচ মন-মানসিকতাকে তাদের মন থেকে ধ্বংস করা নাহয় তবে এক সময় এই পৃথিবী বুজুর্গহীন হয়ে যাবে, এবং তাইই হচ্ছে! আর বুজুর্গহীন পৃথিবী মানেই হচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত। সমাজ থেকে নীতি নৈতিকতা, সম্মান, শ্রদ্ধা, মায়া-মহাব্বত, ভালবাসা উঠে যাওয়া, পশু সমাজেই এধরনের অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু শিক্ষার অধঃপতনের কারনে মানব সমাজেও এই অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সঠিক শিক্ষা’ই সামাজিক এই ব্যধিকে রোধ করতে পারবে। সন্তান-সন্ততিদের সঠিক এবং বাস্তবিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজের এত নিচ চিন্তাধারাকে ত্বরান্বিত করা যাবে।

 

 

 

মুন্সী মুহাম্মদ জুয়েল

দর্শন বিভাগ

চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম

 

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!