ব্যর্থতা-হতাশা পেছনে ফেলে নতুন বছর হোক সাফল্যমন্ডিত

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২১

ব্যর্থতা-হতাশা পেছনে ফেলে নতুন বছর হোক সাফল্যমন্ডিত

জুবায়ের আহমেদ:

 

ইংরেজী বর্ষ ২০২০ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০২১ সালের আগমন। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। গেল বছরের হতাশা, গøানি, ব্যর্থতা মুছে যাক। করোনা মহামারির বিভীষিকাময় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটুক। আনন্দঘন ও সফলতার সময়গুলো আবারো ফিরে আসুন নতুন বছরে, প্রাণচঞ্চল হোক প্রতিটি মানুষের জীবন, ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকুক সকলের মানুষের মধ্যে, যে যার অবস্থানে ভালো থাকুক, প্রতিটি সমাজ ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, মানুষে মানুষে বেদাভেদ বন্ধ হোক, হানাহানি, মারামারি, ক্ষমতার দম্ভ চ‚র্ণ হোক, সর্বোপরি সবকিছু কল্যাণকর হোক।

 

গেল বছরে পৃথিবীর মানুষের জন্য মূর্তিমান আতংকের নাম ছিলো কোভিড ১৯। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও এখনো পর্যন্ত করোনা মহামারি থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব হয়নি। বরং নানারূপ ধারণ করে চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে সকলের। করোনার কারনে বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশকেও সীমাহীন দূর্ভোগে পতিত হতে হয়েছে সবদিক মিলিয়ে। বছরের শেষের দিকে সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও করোনা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক গুণী ব্যক্তিবর্গকে।

 

২০২০ সালে করোনা মহামারির বিপর্যয় একপাশে রাখলে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ক্রিকেটে যুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে ধরা দেয়া। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এমন অভাবনীয় সফলতায় অবাক বিশ্ব। পাশাপাশি বছরজুড়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সফলতা থাকলেও বর্বোচিত হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, গুজব, চিকিৎসাখাতে দূর্নীতি, প্রকল্পে দূর্নীতি, একাধিক অগ্নিকান্ড, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি, ট্রেন দূর্ঘটনা সহ সড়কে বারবার দূর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ছাড়াও হতাশাজনক বহু কর্মকান্ড ছিলো, যা নতুন বছরে কাম্য নয়।

 

গত বছরের হতাশা ও প্রাপ্তির পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ে স্বল্প অর্থ ব্যয়েও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায় এবং মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ানোর অসংখ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রচলিত ধ্যান ধারণার বাহিরেও যুগোপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব, তা প্রমাণ হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বিগত বছরে। ভবিষ্যতে যেনো গ্রামীণ অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হয় এবং গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থারও আশানুরূপ উন্নতি ঘটে, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ২০২১ সালে বিচার বহিভর্‚ত হত্যাকান্ড ও ধর্ষণ বন্ধ করা, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রেরণ করা, গুজবের চির বিদায় করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের স্বাভাবিক দাম বজায় রাখা, শিক্ষাঙ্গনকে অশুভ রাজনৈতিক ছায়া থেকে মুক্ত রাখা, চিকিৎসাখাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধির পাশাপাশি দূর্নীতি মুক্ত করা, কোভিড ১৯ মহামারির কারনে বিপর্যয় ঘটা সকল খাতের প্রভ‚ত উন্নয়ন করা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশ ও দশের জন্য ক্ষতিকর কার্যসমূহ থেকে সকলে বিরত থাকা এবং বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, দেশের অর্থ পাচাররোধ করা, প্রবাসীদের জন্য কল্যাণকর পদক্ষেপ নেওয়া, ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে বকেয়া ঋণ আদায়ের চেষ্টা করা, রাজনীতি ও ক্ষমতাকে জনকল্যাণমুখী করা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা, দেশের নাগরিকরা যেনো কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নিরাপদে চলাচল ও বসবাস করতে পারে তা নিশ্চিত করা, ওয়াজ মাহফিল ও সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধ পরিহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে বিগত বছরের হতাশাকে পেছনে ফেলে প্রাপ্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করার মাধ্যমে ২০২১ সালকে সফলতায় মুড়িয়ে দেওয়ার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সহ সকল নাগরিকগন নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহŸান জানাচ্ছি।

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন, ঢাকা।

প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!