নববর্ষে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০

নববর্ষে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

 

দেখতে দেখতে ২০২০ সালের বছরটা শেষ হয়ে গেলো। মহামারী কোভিড-১৯ এর সাথে অনেক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি দিয়ে এই বছরের হিসাবটা মোড়ানো হল। নতুন বছরের আগমনে নব উদ্যোমে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। বরাবরের মত এবারো আমাদের স্বপ্নের প্রত্যাশাগুলো কেমন হবে? নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর ২০২১ সালের প্রত্যাশা নিয়ে লিখেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মহিব্বুর রহমান ফুয়াদ।

 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন রেজা বলেন, “বিদায় নিল আমাদের জীবন থেকে আরেকটি বছর। নতুন বছরের প্রত্যাশা একেকজনের একেকরকম। তবে পরবর্তী বছর ভালো কাটুক এই প্রত্যাশাই সবার। অতীতের দুঃখ ‌কষ্ট আর গ্লানিকে দূরীভূত করে প্রশান্তির বায়ু বয়ে আসুক প্রত্যেক মানব জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে। দেশে ফিরে আসুক শান্তি, সমৃদ্ধি আর স্বস্তি।অতীতের অত্যাচার অবিচার আর অপসংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে সোনার দেশ গড়ে উঠুক এই প্রত্যাশা ই সবার।

নতুন বছরের পদার্পনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আমাদের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকে ‘না’ বলা অনেক স্বপ্ন। স্বপ্নজয়ের প্রত্যাশায় স্বপ্নচারী হয়ে উঠে তৃষ্ণার্ত কাকের ন্যায়। কিন্তু সোনার দেশে সোনার ফসলের পাশাপাশি সোনার মানুষ তৈরি হওয়ার দাবিটাই স্বাভাবিক আর যদি তা না হয়ে অতীতের ন্যায় দুই -বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ও যদি ধর্ষকের হিংস্র থাবা থেকে রেহাই না পায় তাহলে লক্ষাধিক শহীদ আর সহস্রাধিক মা- বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার অস্তিত্ব থাকলো কোথায়? নতুন বছরের প্রত্যাশা হোক সভ্যতা ও সংস্কৃতির লালন। অপসংস্কৃতি আর ভিনদেশী সংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা -ই হোক নতুন বছরের দৃঢ় প্রত্যয় ও অঙ্গীকার।”

 

ইনফোরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা খানম উর্মি বলেন,” ইংরেজি নতুন বছরের কাছে অন্য সবার মত আমারও চাওয়ার কমতি নেই। গত নববর্ষকে আমাদের পক্ষে বরণডালা সাজিয়ে বরণ করা সম্ভব না হলেও কোভিড-১৯ ঠিকই দুহাত মেলে বরণ করে নিয়েছিলো। খেলার মাঠে নেই শিশুদের খলখলানি, মাস্কের আড়ালে আজ সবার হাসিটাও আড়াল, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যেনো মৃত্যুপুরী। তাই নতুন বছরের আগমনী বার্তা জগতে হাসি ফিরিয়ে আনুক, সর্বপ্রথম এটাই কাম্য। অন্যদিকে, দিনকে দিন বাড়ছে যৌন নির্যাতন, বাড়ছে ধর্ম নিয়ে রেষারেষি আর দুর্নীতি। মাঝে মাঝে ভাবতেই আহত হই কি দরকার ছিলো ছয়দফা, ২১শে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা, কিংবা ১৬ ডিসেম্বরের? স্বাধীন রাষ্ট্রে নেই কোন স্বাধীনতা, যোগ্যতার বিচারে নেই চাকরী, মিলেনা অন্যায়ের বিচার। টাকার দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায় সমস্তকিছু। এমনকি পবিত্র শিক্ষাঙ্গনগুলোও মুক্তি পায়নি দুর্নীতির করালগ্রাস থেকে। এছাড়াও, দিনকে দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও কমছে শিক্ষার মান যা জাতীয় উন্নতিতে অন্তরায়গুলোর অন্যতম কারণ। শুভ হোক নতুন বছরের আগমনী বার্তা। কোন শুভ দিন বদলের সাক্ষী হোক নতুন বছর। সুন্দর মন ও সুস্থ মস্তিষ্কের জন্ম হোক প্রতিটি মানুষের মাঝে, দিনশেষে এটাই একান্তভাবে কাম্য। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা, এই বাংলা যেনো কেবল নামে মাত্র নয়, প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলা হয়।”

 

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জানে আলম বলেন, “কালের পরিক্রমায় বিদায় নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আরও একটি নতুন বছর।বিদায়ী বছরের হতাশা ও বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে ভালো কিছু প্রাপ্তির সপ্ন নিয়ে মানুষ বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। নানাবিধ অনিশ্চিতয়তার মধ্যে নতুন বছরের আগমন।তাই প্রত্যাশার পারদে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকপে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ঘটেছে ছন্দপতন,ঝরেছে অনেকগুলো প্রাণ।করোনা মহামারির এই ভয়াবহ সময়েও পাল্লা দিয়ে বেড়ে গেছে ধর্ষন মহামারি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের সাস্থ্য ব্যাবস্থা,ব্যহত হয়েছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা,কর্মহীন ও বেকার হয়েছে অনেক মানুষ।এছাড়াও নানাবিধ সমস্যা উদ্বেগ, উৎকন্ঠা,শঙ্কায় কেটেছে পুরো বছর। নতুন বছরের নতুন সূর্যদোয়ের সাথে সাথে কেটে যাবে সকল আঁধার, সব ধরনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ। দেশে ফিরে আসুক শান্তি, সস্তি ও গতিময়তা। আর নিজের চিরচেনা মুখরিত ক্যাম্পাসে আবার যেন ফিরতে পারি এই কামনাই করি।”

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ফাহাদ হোসেন বলেন, “দেখতে দেখতে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলো ২০২০ সাল। অতীতের সব দুঃখ-কষ্ট আর প্রত্যাশা-প্রাপ্তির টানা পোড়নে পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে ২০২১ সালের আগমন। নতুন বছরের উদিত সূর্যের নব আভা আমাদের মনে সঞ্চার করুক নতুন প্রাণশক্তি। মুছে দিক অতীতের সকল হতাশা ও দুঃখ- কষ্ট।

ইতিবাচক মনোভাব আর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়ে নতুন করে গড়ে উঠুক আমাদের প্রিয় সোনার বাংলাদেশ।

তরুণরা সৃষ্টিশীল আর সাহিত্যমনা হয়ে উন্মুক্ত করুক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। সহিষ্ণুতা, উদারতা আর অপরের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে এমন একটি মানিবক দেশ তৈরি হোক যেখানে থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, কলহ, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি কিংবা লুটতরাজ। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতি অব্যাহত থেকে একটি ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। নতুন বছরে এটাই প্রত্যাশা।”

 

মহিব্বুর রহমান ফুয়াদ
fuad20001127@gmail.com
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!