টাউন হলের ঐতিহ্য রক্ষায় আসিফ আকবরের আহ্বান

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২০

টাউন হলের ঐতিহ্য রক্ষায় আসিফ আকবরের আহ্বান

বাংলাদেশের সাংষ্কৃতিক অঙ্গনের ঐতিহ্যবাহী স্থান কুমিল্লা টাউন হল। বৃটিশ শাসনের সময়কালে তৎকালীন ত্রিপুরার বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন অর্থাৎ টাউন হল কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে আজোও। যেখানে সংস্কৃতির চর্চা হয়।

 

কালের সাক্ষী এই টাউন হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল, মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, শের-ই বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তির পদচারনায় মুখরিত হওয়া টাউন হল ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণ নাকি প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে প্রত্মসম্পদ হিসেবে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগে হস্তান্তর করা হবে তা নিয়ে গণ শুনানী হয়েছে গতকাল। তবে গণ শুনানী নিয়েও অসন্তোষ আছে সংষ্কৃতি অঙ্গনে, কেননা ১৮৮৫ সালে কুমিল্লা বা তৎকালীন ত্রিপুরার কালেক্টর জেএফ স্ক্রাইনের উদ্যোগে ত্রিপুরা মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুর কর্তৃক স্থাপিত টাউন হল কুমিল্লা তথা ব্রিটিশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে শুরু করে কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। এমন অকাঠ্য দলিল থাকার পরও গণশুনানীর আয়োজনকে অনেকেই দেখছেন বানিজ্যিক ফায়দা লুটার জন্য স্বার্থান্বেষী মহলের কৌশলী কর্ম হিসেবে।

 

টাউন হল নিয়ে নিজের অবস্থান উল্লেখ সহ কুমিল্লাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে কুমিল্লার কৃতি সন্তান বাংলা গানের যুবরাজখ্যাত আসিফ আকবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজ ও আইডিতে লেখেন-

 

কুমিল্লাবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে লেখাটি লিখছি। আমি কুমিল্লার গর্বিত সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠেছি। শহরে সম্মান পেয়েছি আবার অপমানিতও হয়েছি। সমস্ত প্রাপ্তিগুলোকে অধিকার হিসেবেই মেনে নিয়েছি। আমার সমর্থিত দল বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কুমিল্লা শহরের দুটো সমস্যায় দলের বিরুদ্ধে গিয়েছি সরাসরি। শহরের বুকে মফিজাবাদ কলোনী গ্রাস করার ষড়যন্ত্র করেছিল ক্ষমতাসীনদের একটা প্রভাবশালী অংশ। সেই সঙ্গে রানীরকুটির গ্রাসেরও ভয়ঙ্কর চেষ্টা ছিল। আমি সরাসরি দলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। পরে ড: খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্যার আমাদের আন্দোলনকে সমর্থন করে রানীর কুটিরের মত ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষায় কুমিল্লার গণমানুষের আবেগের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। মফিজাবাদ কলোনী রক্ষার্থেও মোশাররফ স্যার সহযোগীতা করেছেন। তৎকালীন ত্রান ও পূনর্বাসন মন্ত্রী সদ্যপ্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ স্যারের সরাসরি নির্দেশে মফিজাবাদ কলোনী জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী আজো টিকে আছে। আমার দাবী ছিল একটাই- পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবেনা। আল্লাহর রহমতে সফল হয়েছি।

 

 

এখন দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া দৃশ্যমান রাজনৈতিক কোন দল নাই। গদি থেকে রাজপথ তাদের দখলে। এটা আমার ব্যক্তিগত কোন সমস্যা নয়। কেউ তাদের মানে কেউ মানেনা। এটাও কোন মেজর সমস্যা নয়। কারন আমার চীৎকার কিংবা আর্তনাদ শোনার মত কানগুলো ক্ষমতার দম্ভে বধির হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে ভাল কাজের জন্য অভিনন্দন জানালেও সন্দেহ পোষন করে। ভালবাসার জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে ঘৃনা, দূরত্ব বাড়তে বাড়তে মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আমার প্রানের শহর কুমিল্লাও এসবের বাইরে নয়। ইদানীং কুমিল্লা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন অর্থ্যাৎ টাউন হল নিয়ে শহরে অনভিপ্রেত গোলযোগ শুরু হয়েছে।

 

 

এমনিতেই আমাদের ঐতিহ্য নানা অযত্নে বিলীনের পথে। দুনিয়া ঘুরে দেখেছি সব জাতি তাদের হ্যারিটেজ রক্ষার্থে ব্যস্ত। আর বাংলাদেশে চলে নগরায়নের নামে ইতিহাসের ধ্বংসযজ্ঞ। কুমিল্লা টাউন হল নিয়ে শহরের সম্মানিত নেতারা যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবেন এই আশা রাখি। বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন আমাদের কুমিল্লার ঐতিহ্য, আবেগের জায়গা। নিশ্চয়ই শহরের মুরুব্বীরা সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সিদ্ধান্ত হতে হবে কুমিল্লার গণমানুষের হৃদয়ে লালন করা শতবছরের ভালবাসার মত। কোনরকম বানিজ্যের কারনে ইতিহাসের স্খলন মেনে নেয়া হবেনা ইনশাআল্লাহ। ইতিহাস ঐতিহ্যের পথিকৃত কুমিল্লার গৌরবময় পথচলা ছুটে চলুক অসীমের দিকে। কুমিল্লাবাসীর প্রতি দাবী আপনারা ন্যায্যতার পক্ষে থাকুন। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি অনুরোধ আমাদের ঐতিহ্য রক্ষার দাবী সঙ্গত মনে করলে নৈতিক সমর্থন দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

ভালবাসা অবিরাম…

 

 

 

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!