বিজয় দিবসে তারুণ্যের প্রত্যাশা

প্রকাশিত: ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০২০

বিজয় দিবসে তারুণ্যের প্রত্যাশা

১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনি।পাকিস্তানিদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে এ দেশের ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে এবং অসংখ্য নারী তার সম্ভ্রম হারিয়েছে। যে দেশে থাকবে না কোনো বৈষম্য, শোষণ, রাহাজানি, দূর্নীতি, অন্যায়-অবিচার। আজ বিজয়ের ৪৯ বছরেও কি আমরা সেই সব শহীদদের,মুক্তিযুদ্ধাদের, সম্ভ্রমহারা নারীদের ও বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে পেয়েছি? সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের স্বনামধন্য চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিজয় দিবসের প্রত্যাশা নিয়ে লিখেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিব্বুর রহমান।

মাহমুদুল হাসান জুবায়ের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জোবায়ের বলেন, “প্রতি বছর ১৬ই ডিসেম্বর আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধার্জিত এক মহান বিজয়ের কথা। বিজয়ের ৪৯ বছরে অনেক অর্জন ও সাফল্য আমাদের কাছে ধরা দিয়েছে। আমাদের মাথাপিছু গড় আয় ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২০৬৪ দাঁড়িয়েছে। ফলে আমরা রুপান্তরিত হয়েছি নিম্ম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম(নিম্মমধ্যম) আয়ের দেশে। স্বাস্থসেবায়, কৃষিতে, বিদ্যূ খাতে, শিল্প ও বানিজ্য খাতে, পোষাক শিল্পসহ বিভিন্ন রপ্তানিপ্রবন শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করে তা বিকাশে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রসারতা লাভে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। এত প্রাপ্তির পরও অনেক অপ্রাপ্তি রয়েছে। যেমন- খাদ্যে ভেজাল, বিদেশী অপ-সংস্কৃতির আগ্রাসন, সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয়, দূর্নীতি প্রভৃতি থেকে হতে না পারা আমাদের মাঝে নিয়মিত আক্ষেপের সৃষ্টি করে। বিজয়ের এ লগ্নে দৃশ্যমান উন্নয়নের পাশাপাশি অদৃশ্যমান উন্নয়ন- সামাজিক নৈতিকতার মূল্যবোধ বৃদ্ধিকরণ, সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা অর্জন, নাগরিক সম-অধিকার,খাদ্য নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নিশ্চিতকরণের প্রত্যয়ই ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মার প্রশান্তি দান করবে”

নেছার আহমদ হাজারী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নেছার আহমদ হাজারী বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। এইদিনে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিবাহিনীর নিকট পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হয়। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশ লাভ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু স্বাধীন দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটুকু দিতে পেরেছি? অথচ যে কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জরুরি। কেননা ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা। এছাড়াও কোনো রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের মাপকাঠি হলো, সে দেশের বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা সংরক্ষণ। বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ, অধঃস্তন আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালগুলো (অনুচ্ছেদ ৯৪-১১৭) লিপিবদ্ধ রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, আপিল ও হাইকোর্ট সমন্বয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট গঠিত এবং প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিরা বিচারিক কার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। অথচ বাস্তবে তারা ক্ষমতাসীনদের কাছে জিম্মি। এমন পরিস্থিতি আমাদের বিজয়ের অর্জনকে ব্যাহত করছে।”

আবদুল কবীর ফারহান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কবীর ফারহান বলেন, “দীর্ঘ সময়ের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা শব্দটি অর্জিত হয়েছে। বহু প্রাণের তাজা রক্তের মূল্য দিয়ে কেনা এই বাংলাদেশ। প্রতিবছর বিজয়ের দিনে রাষ্ট্রীয় সকল পর্যায়ে দিবসটি সম্মানের সাথে পালিত হয়। তবে প্রচলিত সেই বাক্যটির দিকে খেয়াল রাখতে হবে, ‘ স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন।’ আজও দেশের ভিতর লুকিয়ে থাকা দেশদ্রোহী শক্তির প্রভাবে আমাদের স্বাধীনতা শব্দটি যেন বিলীন হয়ে না যায় এজন্য তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এদেশের অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায় আমি, আমরা সহ সকল দেশপ্রেমী তরুনদের অংশগ্রহণ থাকুক বিজয় দিবসে এটাই কামনা। এদেশ গঠনের প্রকৃত ইতিহাস জেনে স্বাধীনতা রক্ষার্থে আত্মনিয়োগ করাই দেশপ্রেমীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

মো. ইয়াসিন ভুইয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন ভূইয়া বলেন, “বিজয় শুনতেই কেমন আনন্দের হইচই। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে কত শত ত্যাগ আর বিসর্জনের মর্মস্পর্শী গল্প। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয়। রক্তস্নানে অর্জিত এই বিজয় আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। বিজয়ের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। দেশকে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে দীপ্ত শপথ গ্রহণ করতে হবে। কেবল মনোযোগ আকর্ষণ আর স্বার্থসিদ্ধির জন্য ‘মুক্তিযুদ্ধ,বঙ্গবন্ধু,স্বাধীনতা,বিজয়’ এসব আবেগময় শব্দগুচ্ছকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে হবে। দেশের স্বার্থকেই নিজ স্বার্থের উর্ধ্বে প্রাধান্য দিতে হবে।তবেই শহীদদের প্রাণের বিসর্জন সার্থক হবে।বিজয় তার প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাবে।”

 

মহিব্বুর রহমান ফুয়াদ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

fuad20001127@gmail.com

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!