মেয়েটা কবিতা হতে চেয়েছিল

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

মেয়েটা কবিতা হতে চেয়েছিল

জান্নাতুল ফেরদৌস:

সেই মেয়েটি আজো আসে প্রতিরাতেই-
নিজস্ব অনলে পোড়া ঘ্রাণে নিজেই
চিতায় পোড়ায় সে- কিছু ব্যথার ছাই

শ্মশান নীরবতা রেখেছিল চোখের পাতায়!

খুব অভিমানী সে মেয়েটা কবিতাই হতে চেয়েছিল নীরবে।

আমায় নিয়ে তুমি একটা কবিতা কি লিখবে?
কেবল একটাই কবিতা?

 

মেয়েটার চোখের কিনারা জুড়ে ছিল একটা জলাশয়।
মেয়েটার বুকের নদীটা জু্ড়ে ছিল শ্যাওলা পিচ্ছিল ঘাট।

 

নদী নয়, মেয়েটা; মৃত ডোবার জল রেখেছিল বুকের গহীনে।

একটা কবিতার জন্য মেয়েটা কি ভিখারির মতন! চাতক পাখীটার মত!…

 

মেয়েটা কেবলই একটা কবিতাই হতে চেয়েছিল দহনে!

মনে তার আকাশ; নীলিমার রঙের আভা।

সেখানে কালো মেঘ সেজেছিল আঁধার নিয়ে।

মেয়েটা জলের সে আয়নায় অচেনা কাউকে খুঁজেছিল!
নিষিদ্ধ লোবানে ছাই ভাসানো জলে আবার।

 

শান্ত জল ছায়ায় মেয়েটা দেখেছিল অতীতের একটা
চপলমতি!
খুব নরম রোদেরই মত আলতো ছুঁয়ে থাকা কিশোরী একা বসেছে ঘাটে কারো জন্য!

 

দেখেছিল মুক্ত একটা পাখী উড়ে গিয়েছিল আকাশে- অরণ্য ছাড়িয়ে বহুদূরে অজানা নীলে।

নিস্তরঙ্গ জলে ডাহুকের ছায়ায় একাকীত্ব দেখে মেয়েটা কেবলই একটা ঢিল ছুড়ে দিয়েছিল তীব্র কোনো ক্ষোভের সাথে সজোরে!

কবে লিখবে সেই কবিতাটি আমায় নিয়ে?

 

একটা কবিতাই শুধু আমি চাই-ই যে!

মিথ্যে হলেও তো লিখো- অতুলনীয় সুন্দরের কথা..
মেয়েটা তার কালো রঙের গালিচায় বিছিয়ে রেখেছিল শুদ্ধতম মন গোপনে।

 

কেউ দেখেনি সেই মনের নোঙর কোন সে বন্দরে; কেউ জানেনি কোন নিগুঢ় ব্যথা হয় মেয়েটি?

কোনো এক শীতের রাতে মেয়েটা নিজে পুড়েছিল নিজের অনলে!

 

কবিতার চরণে বিছিয়েছে নদীর স্রোত ;মেয়েটা তবু মোহনার কাছেই হাতছানিতে নিশি পাওয়া এক ঘোরে হেঁটেই গিয়েছিল কবিতার মতন বোধে..

 

দৃষ্টিতে শূন্যতা মায়াজাল বুননে– স্বপ্ন!

মেয়েটি হয়তোবা কবিতা হয়েছিল শেষে!

অথবা কবিতার মতন হতে হতে হতে..

 

মেয়েটা কবিতার শরীরে পেয়েছিল নির্বাক কথার মালা
অবাঙময় সাজে পংক্তি হয়েছিল বাঙময় কবিতা শব্দের আঁচড়ে যত…

 

মেয়েটা কবিতার মতন হতে চেয়ে একটা গল্পের মতন হয়েছিল ভীষণ অভিমানে!হঠাৎ….

 

মেয়েটা কবিতা তো হতে পারেনি আর
মেয়েটা গল্পও হতে পারেনি.কোনোদিন…
মেয়েটার বুকের জমি জুড়ে তবুও সেদিন কবিতার চাষাবাদে অযুত শব্দের নিনাদ হয়েছিল কেবল!

error: Content is protected !!