পারিবারিক সহিংসতা আইনের আশ্রয় গ্রহণ ও প্রয়োগ জরুরী

প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

পারিবারিক সহিংসতা আইনের আশ্রয় গ্রহণ ও প্রয়োগ জরুরী

জুবায়ের আহমেদ:

জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ ২০১০ সালে নারী ও শিশুর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পারিবারিক সহিংসতা হইতে নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ পাশ করে। উক্ত আইনের লঙ্ঘন কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও পারিবারিক সহিংসতা থেকে নারী ও শিশুরা এখনো নিরাপদ নয়। বিশেষ করে স্বামীর গৃহে স্ত্রীকে অধিকার বঞ্চিত করে রাখা, পিতার গৃহে কন্যা সন্তানকে অধিকার বঞ্চিত করে রাখা, তাহার অধিকার প্রয়োগে বাধা দান, শিশু সন্তানকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন নিত্যনৈমিত্যিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের মধ্যে নারীকে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইনেও বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বর্জনের আহŸান জানানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো স্ত্রীরা স্বামীর গৃহে নিরাপদ নয়। স্বামী-শ্বশুর, দেবর-ননদ দ্বারা নির্যাতনের শিকার হতে হয়, অবহেলার শিকার হতে হয়। শিশু সন্তানকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য কিংবা শাসনের নামে নির্যাতন করা হয়। গৃহবধু একাধিক কন্যা সন্তানের জন্ম দিলে কিংবা পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে না পারলে এটি স্ত্রীর দোষ হিসেবে গন্য করে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা হয়, তার অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করে রাখা হয়। কন্যা শিশুকে অনাদর অবহেলায় ফেলে রাখা হয়। পারিবারিক সহিংসতা এমনই ভয়ানক কর্মকান্ড যে, এসব অপরাধকে পারিবারিক বিষয় হিসেবে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। যার ফলে নারী ও শিশু নিরব অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

 

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এ নারী ও শিশুর সকল অধিকার সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং উক্ত আইনের লঙ্ঘনের শাস্তি বিধান রাখা হয়েছে। নারী ও শিশুর অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা ও কার্যক্রম গ্রহণের পদ্ধতি সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে। এই অবস্থায় পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা উক্ত আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং একই সাথে দায়িত্ববান ব্যক্তিগন কর্তৃক পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে উক্ত আইনের বাস্তাবয়ন করার মাধ্যমে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যরোধ করার বিকল্প নেই।

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন, ঢাকা

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!