মেধা নষ্ট হয় মাদকাসক্তিতে

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

মেধা নষ্ট হয় মাদকাসক্তিতে

জুবায়ের আহমেদ:

মাদক হলো এক ধরনের ক্যামিক্যাল। এটা যেকোন ধরনের ক্যামিক্যালই হতে পারে। যা মানুষের মনে উত্তেজনা তৈরী করে, সাময়িক ভাবে উদ্দীপনা তৈরী করে। কিন্তু এটি আসক্তিতে রূপান্তর হওয়ার কারনে পরবর্তীতে মারাত্মক ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। একেই বলা হয় মাকদাসক্তি। যার ফলে মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশুণ্য হয়ে যায়, অবরুদ্ধ হয়ে যায় বিবেক, যার ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তির দ্বারা যেকোন ধরনের অপরাধ মুহুর্তের মধ্যেই সংঘটিত হয়ে যায় কোন অনুশোচনা ছাড়াই। মাদকাসক্ত হওয়ার কারনে মানবিকবোধ নিস্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার কারনে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে সুবিধাবাধীরা। স¤প্রতি বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীরাও মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের নেশায় আসক্ত থাকার মুহুর্তেই বর্বরোচিত আঘাতের মাধ্যমে আবরারকে মেরেছেন। এর আগে বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীরাও মাদকাসক্ত ছিলেন মর্মে জানা গেছে। শুধুমাত্র হত্যাকান্ডই নয়, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই সহ বহু অপরাধের মূলে এই মাদক।

 

মাদকের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে, তরুন-তরুনীরা মাদকে বেশি আসক্ত হলেও শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষই মরণঘাতি মাদক গ্রহণ করছে। সরকারী, বেসরকারী উদ্যোগ সহ সামাজিক ভাবে মাদকের ভয়াবহতা এবং পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করলেও কমছে না মাদকসেবীর সংখ্যা, কমছে না মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা। মাদক ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ে অধিক সম্পদের মালিক হওয়ার নেশায় সারা দেশে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থলোভীদের এ ধরনের মনোভাবের কারনে ধ্বংশ হচ্ছে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত। মাদকাসক্ত হওয়ার কারনে মেধাবী শিক্ষার্থীটি ছিটকে যায় শিক্ষাগ্রহণ কার্যক্রম থেকে কিংবা শিক্ষা গ্রহণ করলেও সে শিক্ষার সৌজন্যে আলোকিত মানুষ হওয়ার এবং মানবসেবায় নিয়োজিত হতে পারে না মাদকাসক্তির কারনে।

 

মাদকের ভয়াবহতা ও পরিণতির কথা বুঝতে ও জানতে পারার বহু শিক্ষার্থী কিশোর-কিশোরী বন্ধুদের আড্ডায় কিংবা মাদক বিক্রেতাদের ফাঁদে পা দিয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের প্রভাবে একজন মানুষ সহজেই হিতাহিত জ্ঞানশুণ্য হয়ে পড়ে। কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কোন কাজ করা উচিত, কোন কাজ করা ঠিক নয়, সে বিষয়ে জ্ঞানহীন হয়ে পড়ে মাদকসেবীরা, যার ফলে সমাজে নানা প্রকার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, পারিবারিক কলহ তৈরী হয়, চিহিৃত অপরাধীরা মাদকসেবীদের ব্যবহার করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করা সহ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে সহজেই জড়িয়ে পড়ে মাদকসেবীরা। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য কেনার জন্য পিতা মাতা এবং পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকে টাকা চেয়ে না পেলে, চুরি করা এবং যেভাবেই হোক মাদকের টাকা জোগাড় করতেই হবে, এই ভাবনা থেকে পাড়াপ্রতিবেশীও রেহায় পায় না মাদকাসক্ত থেকে। এমনকি মাদকের নেশায় মত্ত হয়ে এবং মাদকের টাকার জন্য মানুষ খুন করা এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিনী পরিবারের সদস্যদের মারধর করা সহ নানা প্রকার অপরাধজনক ঘটনাও পত্রিকার পাতা উল্টালে পাওয়া যায়।

 

মনে রাখতে হবে অসৎসঙ্গের কারনে এবং পরিবারের অবহেলা কিংবা অধিক আস্কারা পেয়েই মাদক সেবনে আগ্রহী হয় তরুন-তরুনীরা। পরিবারের স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়েরা কার মেলা মেশা করছে সেদিকে খেয়াল রাখা পিতা মাতা সহ পরিবারের বড় সদস্যদের দায়িত্ব। বহু অপরাধের মূলে মাদক, মাদকাসক্তরা যেকোন অপরাধ সংঘটিত করতে পারে অনাসায়েই, যার বহু প্রমাণ এখন প্রকাশ্য। মাদকসেবীদের বিবেকহীনতাকে পুজি করে এক শ্রেণীর সুবিধাভোগীরা তাদের স্বার্থ হাসিল করছে। নিজেরা সাধু সেজে থেকে মাদকসেবীদের দিয়ে সকল অপরাধজনক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। মাদকাসক্ত হয়েই খুন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করছে মানুষ।

 

একটি সুষ্টু ও সুন্দর আগামী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে মাদক নির্মূলের জন্যই অভিযান জরুরী। সকল অপরাধের মূলে মাদক ও মেধা মাদককে ধ্বংশ করে, এ সত্যটিকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীদের মতো মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাদকাসক্তদের প্রয়োজনে আইনের আওতায় এনে এবং মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসার ব্যবস্থা করার কোন বিকল্প নেই। তাহলেই কমে যাবে খুন-ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কমকান্ড। মাদকের কারনে হারাবে না কোন তাজা প্রাণ, মাদকাসক্ত হয়ে নষ্ট হবে না কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জীবন। দেশব্যাপী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন দেশ ও জাতির স্বার্থে সময়ের দাবী।

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম,
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন, ঢাকা।

 

 

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!