শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রুখে দিতে হবে

প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২০

শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রুখে দিতে হবে

জুবায়ের আহমেদ

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে হেমন্ত। এখন অগ্রহায়ণ মাস। এই মাসে শীত পরে দেশব্যাপী। গ্রামীণ জনপদে ভোরের কুয়াসা জানান দেয়, শীত এসেছে। ষড়ঋতুর পঞ্চম ঋতু শীত আসন্ন। সে সময়ে হাড়কাঁপা শীতে কাবু হবে সকলে। শীতকাল মানেই বয়োবৃদ্ধ মানুষ সহ দরিদ্র মানুষের দুঃখের সময়। শীতবস্ত্রের অভাব এবং রোগের প্রভাবে দূর্বিসহ হয়ে উঠে জনজীবন। পাশাপাশি এই বছরে করোনার থাবা বিদ্যমান থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের শীত ভয়াবহরূপ ধারণ করবে, তা অনুমেয়।

 

গত বছরের শেষে চীন থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরা কোভিড ১৯ এ বিশ্বব্যাপী ৫ কোটির বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুবরণ করেছে দশ লাখেরও বেশি। সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ৩.৫ কোটির বেশি হলেও বর্তমান অবধি করোনা তার তান্ডব বজায় রাখায় জনমনে স্বস্তি নেই। বরং করোনার ২য় ঢেউ আসবে শীতকালে, এমনটাই ধারণা করা হছে এবং ইতিমধ্যে শীতের শুরু থেকেই বাংলাদেশে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে চলতি বছরের শীতকালের অভিজ্ঞতা সুখকর হবে না বাংলাদেশীদের জন্য। সরকার শীতকালে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ধারণা করেই খোলেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ-মাদ্রাসা, অফিস-আদালতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে, যা বেশ ইতিবাচক বিষয়।

 

বাংলাদেশে করোনার নিয়মিত লাইভ বুলেটিন বন্ধ করে দেওয়া এবং অফিস-আদালত খোলে দেওয়ার পর মানুষের মন থেকে ভীতি কেটে গেছে অনেকটাই। তবে এই সময়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে পূর্ণ সতর্ক থাকার পরিবর্তে পূর্বের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলার কারনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পুনরায়। করোনার সাথে হাঁচি, কাশি, ঠান্ডা-জ্বর এর সম্পর্ক থাকায় শীতকালে এধরনের রোগে আক্রান্ত বেশি হয় বিধায় করোনা ভীতি আবারো জনমনে আতংক সৃষ্টি করছে।

 

প্রতি বছর উত্তরবঙ্গের সবজেলা সমূহে শীতের তীব্রতায় ভুগে অসহায় মানুষ ও দরিদ্র মানুষজন। অধিকাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস সেসব অঞ্চলেই। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও সহ বহু জেলায় শীতের প্রকোপ থাকে বেশি, কিন্তু থাকে না পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। একটি পরিসংখ্যানে জানা যায় বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের সংখ্যা ২ লাখেরও অধিক, যারা পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র পায় না। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা পর্যন্ত নয় এবং অনেক সময় সাধারণ মানুষদের কাছে শীতবস্তু পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ অনেক।

 

তীব্র শীতের কারনে প্রতি বছরই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। শীত নিবারণের মতো বস্ত্র না থাকায় অতিশয় বৃদ্ধ সহ বহু মানুষের মৃত্যু ছাড়াও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে বহু মানুষকে। করোনার থাবা অব্যাহত থাকার কারনে অন্যান্য বছরের চেয়েও এবার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। একটি উন্নত ও আদর্শ রাষ্ট্রের একজন নাগরিকরও পর্যাপ্ত শীত বস্ত্রহীন অসহায় জীবন যাপন করতে পারে না। দেশের অসহায় নাগরিকদের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা ব্যতীত দেশ কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না।

 

বাংলাদেশ দরিদ্র সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দেশ। শীতকালে দরিদ্র মানুষদের অধিকাংশই পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র পাননা। শীত নিবারণ করতে না পারার কারনে তারা নানা রোগে আক্রান্ত হন। সেই সাথে এবার করোনা যুক্ত হওয়ায় এ সকল লোকদের সুস্থতা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় দায়িত্ববান নাগরিক, দায়িত্বশীল সংস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি দারিদ্র নাগরিকদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে দ্রæততম সময়ের মধ্যে। শীতবস্ত্র পাওয়া নাগরিক অধিকার, করোনার শীতে যেনো কোন নাগরিক শীতের প্রভাবে অমানবিক জীবনযাপন না করে, অসুস্থতায় যেনো না ভুগে, অবহেলার শিকার যেনো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সকল দরিদ্র নাগরিকদের শীতবস্ত্র এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই শীতে রুখে দিতে হবে করোনার ভয়াল থাবা।

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন, ঢাকা।

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!