তারুণ্যের উন্নতি হলেই উন্নয়নশীল হবে দেশ

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২০

তারুণ্যের উন্নতি হলেই উন্নয়নশীল হবে দেশ

তাসফীর ইসলাম (ইমরান):

‘তরুণ তারুণ্যের মতোই, যে তারুণ্য তিমির বিদারী, সে যে আলোর দেবতা।

আমায় নহে গো, ভালোবাস শুধু, ভালোবাস মোর গান’

—এমন কথা যে বলতে পারে তাকে কে না ভালোবেসে থাকতে পারে? তিনি যে তারুণ্যের প্রতীক—

চির-উন্নত মম শির’।

যিনি এখনো মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগান। তাই তো এ যুগের তরুণদেরও উজ্জীবিত করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

যেকোন দেশ ও জাতির উন্নতির পেছনে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে ঐ দেশের তরুণ সমাজ এর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কারণ তারাই আগামী দিনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তরুণদের অন্তরে সদা জাগ্রত থাকে দুর্বার স্পৃহা,অদম্যকে দমন করার এক দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা। তারুণ্য এক প্রবল প্রাণশক্তি যা তরুণ সমাজকে সদা উজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত রাখে। তারুণ্যের এই স্ফুলিঙ্গ তাদের উদ্দীপ্ত শিখায় পরিণত করে তবে তরুণ সমাজের মধ্যে যে স্বপ্ন খেলা করে তাকে বাস্তবে সুন্দর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে,একটি সুন্দর সফল জীবনের পথ দেখাতে প্রয়োজন পরিকল্পিত অগ্রযাত্রা। বর্তমান তরুণদের যাবতীয় চিন্তা-চেতনায়,ভাবনায় এবং কাজকর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি।

কিন্তু আশংকাজনক হলেও সত্য যে দেশে এখন তরুণ সমাজ অনেকটা ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের অনেকেই হতাশাগ্রস্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়ছে। বাস্তবমুখী শিক্ষায় পশ্চাদপদতা, মুখস্তনির্ভর জ্ঞানার্জন,প্রযুক্তিভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার অভাব,শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি,কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব এসব হাজারো সমস্যা সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নৈতিক মূল্যবোধের অভাব,অসহনশীলতা,অসহিষ্ণু আচরণ,মাদকাসক্তি প্রভৃতি নানাবিধ কারণে তরুণ সমাজের অনেকেই অসৎ পথে পা বাড়াচ্ছে। দলীয়করণ ও ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হওয়ার ফলে অনেক তরুণের জাতীয় চেতনাবোধ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব ও ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা অনেক তরুণকে বিপথে পরিচালিত করছে ফলে দেশের তরুণ ও যুব সমাজ আজ বিভ্রান্ত,তারা আজ হতাশায় নিমজ্জিত যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য মোটেই মঙ্গলজনক নয়। এদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থেই আমাদের তরুণ সমাজকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের মাঝে জ্ঞানের আলো প্রজ্বালন করতে হবে।

তরুনরা পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই সরকারি চাকরি পায়না। হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাই অনেক তরুন আছে চাকরি পিছনে না ছুটে এক একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি হয়। দেশের উন্নয়নের কাজে এগিয়ে আসে তরুন সমাজ।

আমাদের দেশের সরকার সকল শ্রেনির মানুষকেই ঋন ও আর্থিক সহয়তা দিয়ে সাহায্য সহযোগীতা করে পাশে দাড়ায়।
কিন্তু শিক্ষিত বেকার তরুনদের পাশে কেউ থাকে না বললেই চলে। একজন শিক্ষিত তরুনের পাশে যদি সরকার ও প্রভাবশালীরা দাড়ায় তাহলে ঐ শিক্ষিত তরুনও একদিন দেশ উন্নয়নশীলের কাজে আসবে। আমরা যদি আমাদের তরুনদের উন্নতি না করতে পারি তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে কিভাবে?
একটি দেশের ভবিষ্যৎ হলো ঐ দেশের তরুন যুবসমাজ। যারাই ভবিষ্যৎতে দেশের হাল ধরবে। যারাই একদিন হবে দেশ নামক ঘুড়িটার লাটাই। সেই লাটাই যদি আমরা আগে থেকেই শক্ত না রাখি তাহলে পরবর্তিতে ঘুড়ি ওড়াবেন কিভাবে?

পিছনের ইতিহাস টানতে গেলে দেখবেন।
১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনে বাঙালির রাজপথ লাল হয়েছিল রফিক,শফিক,জব্বার,বরকত হাজারো তরুনের তাজা রক্তে।

১৯৭১ সালে যুদ্ধে প্রাণ গিয়েছিল হাজারো তরুনের। তরুনের কারনেই মাত্র নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমরা অর্জন করেছিল লাল-সবুজের পতাকা।

আমাদের মনে রাখা উচিত-

যারা তরুনের দল বা তরুন
তাদের চক্ষে অরুণ আলোর নিশান, বক্ষে বরুণ ঢল
তারা নিত্য তরুণ দল
তাদের অগ্র পথের ব্যগ্র সেনার জাগ্র’ চোখের বল
তারাই দৃপ্ত যুবার দল!

তারা হলো নভোচারী, নব নব চর খোঁজে উড্ডীন
তারা নভোমণি, তারা নবোদিত, তারা নবীন
তারা রঙের তিয়াসী, লাল-খুন-রঙে রাঙায়ে বেড়াই দু:শাসনের থাবা
তাদের সাহসে সহসাই কাঁপে ‘খোদা’র আরশ-কাবা!
তারা যোদ্ধা, ‘বুদ্ধে’র যম
শ্রাদ্ধের ঘাটে ফিরি হরদম
তারা সাগরবক্ষে উত্তাল তরী, মেঘের বক্ষে ঝড়
তারা হতচ্ছাড়া কিশোর দর্শে কিশোরী-চক্ষে ডর
তারা ডাগর-চক্ষু, প্রণয়-স্পর্শ, কম্পিত-বুক-থর
তাদের শ্বাপদ-চক্ষে শর!

তরুনরাই পারে দেশকে রক্ষা করতে। জাতির সামনে নিজের দেশকে তুলে ধরতে।

আমাদের বাংলাদেশ নামক ছোট দেশটাকে বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত করতে  তরুনদের ভূমিকাও অপরিসীম।

তাই যত দিন এই তরুণরা সমৃদ্ধির নেতৃত্ব দেবে তত দিন পিছু হটার ভয় নেই বাংলাদেশের। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এই তারুণ্যের শক্তিতেই। ক্রিকেটের রণাঙ্গনে যেমনি সমীহ জাগিয়েছে পরাশক্তিসমূহের বিরুদ্ধে তেমনি নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, দক্ষতা এ কর্মস্পৃহায় দেশের আর্থ-সামাজিক ও পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার নেতৃত্ব যে তরুণদের হাত ধরেই আসবে তার ঘণ্টাধ্বনি আজ গহনদ্বারে বার বারই শুনি। তাই প্রয়োজন এই তরুণ সমাজকে সমৃদ্ধির মূলধারায় ধরে রাখা, তারুণ্যের মূল্যবোধকে অনুধাবন করা এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন। আর এই তারুণ্যের শক্তিতেই আসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি।

তারুণ্যের উন্নতি হলেই উন্নয়নশীল হবে দেশ।
শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের সব দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগে তারুণ্য উন্নতি গতিশীল করতে হবে।

শিক্ষার্থীঃ সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং, বাসাই 
imran187619@gmail.com

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!