আসিফ আকবরের মহানুভবতা

প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২০

আসিফ আকবরের মহানুভবতা

স্বপ্ন ঘুড়ি বিনোদন ডেস্ক:একজন শিল্পী শুধুমাত্র গান গেয়েই মানুষকে আকৃষ্ট ও বিনোদন দেন না, ব্যক্তিগত বহু কাজের মাধ্যমেও মুগ্ধতা ছড়ানো সহ মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারেন। এমন কিছু মানুষের মধ্যে বাংলা সঙ্গীতের যুবরাজখ্যাত আসিফ আকবর অন্যতম। যিনি কণ্ঠের যাদুতে মুগ্ধতা ছড়ানো ছাড়াও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আইডলে পরিণত হয়েছেন।

কাকে কতটুকু সহযোগিতা করেন, মানুষের উপকারে কতটুকু আসেন, এইসব বিষয়ে কখনোই প্রকাশ করেন না আসিফ আকবর। তবে আজ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও আইডিতে পোষ্ট দিয়ে শরীয়তপুর জেলার পালংয়ের ছেলে নিজের অফিসকর্মী মেহেদীর প্রসঙ্গে লিখার মাধ্যমেই প্রকাশ হয়েছে আসিফ আকবরের মহানুভবতা। নিজের অফিসে কাজ করা অনেককেই তিনি নিজ উদ্যোগে প্রবাসে পাঠিয়েছেন পরিবারের ভাগ্য ঘুচানোর জন্য।

 

মেহেদী প্রসঙ্গে আসিফ আকবর লেখেন-

“আমার অফিসের সিকিউরিটি বললো একটা ছেলের কথা, নাম মেহেদী। একটু ভেগাবন্ড টাইপের, পথে প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে জীবন খুঁজে বেড়ায়, কাজ দরকার। চাকরী দেয়ার পর দেখলাম ছেলেটার ভিতর একটা জংলীপনা কাজ করে। ডিউটির ফাঁকে হঠাৎ হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়ায় কোন জবাবদিহিতা নেই। তার বিরুদ্ধে শুধু বিচার আর বিচার, এমনকি যার তদবীরে চাকরী হয়েছে সেও বিরক্ত। এ ব্যাপারটা আমার খুব ভাল লেগে গেল। যার বিরুদ্ধে সবাই সে কেমন হতে পারে জানার ইচ্ছে তৈরী হলো। সব সফরে সাথে সাথে রাখা শুরু করলাম। অন্তত আটমাস তার বহুবিধ অত্যাচার সহ্য করে বুঝলাম ছেলেটা সলিড। কোন মিথ্যা কথা বলেনা, এমনকি আমার বিপক্ষে গেলেও সরাসরি কথা বলে ফেলে।

 

শরীয়তপুর জেলার পালংয়ে তার বাড়ী। আমার ক্যারিয়ারের বিশটা বছর এই ডামুড্যা ভেদরগঞ্জ পালং অর্থ্যাৎ শরীয়তপুরের ছেলেরা বিশ্বস্ত সেবা দিয়ে গেছে। পুরনো সবাইকে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি চাইনি আমার কাছে থেকে কেউ সেবা দিতে দিতে জীবন শেষ করে ফেলুক। আলহামদুলিল্লাহ সবগুলো ছেলে বিদেশ বিভুঁইয়ে ভাল আছে। মেহেদীর বয়স আটাশ এর মত হবে আন্দাজ। তাকে একদিন ডেকে বললাম বিয়ে করে সংসারী হও, সব দায়িত্ব আমার। মেহেদী বললো স্যার চার বছর পর বিয়ে করবো। একটু মেজাজ খারাপ করেই কারন জানতে চাইলাম। বললো ছোট বোনের বিয়ে দিয়ে চারবছর পর সে বিয়ে করবে। বললাম ছোট বোনকে বিয়ে দিয়ে দাও আমি দেখবো। তারপর মেহেদীর উত্তরে রীতিমত বোকা বনে গেলাম। বললো স্যার আমার বোনের বয়স এখন চৌদ্দ, চার বছর পর আঠারো হবে, এই ফাঁকে ওর বিয়ের জন্য টাকা জমাবো। অনেকটা পথ হেঁটে অভিজ্ঞ হয়েছি। নিরক্ষর মেহেদীর এই কথা আমাকে নতুন শিক্ষা দিলো। এতো দায়িত্ববোধ ছেলেটার, আপ্লুত হয়ে গেলাম। তারপর একান্তে টেনে নিলাম নিজের কাছে।

 

অফিসে ফরমায়েশ খাটা ছেলেটার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ আমি। মেহেদীর কাছে আমার অর্ডারের বাইরে অন্য কোন কারিকুলাম কাজ করেনা। আমার জন্য পাগল ও। এভাবে চললে জীবনে উন্নতি হবেনা। আজ প্রস্তাব দিলাম বিদেশে চলে যাবার জন্য, যেভাবে তার আগের জেনারেশনকে পাঠিয়ে দিয়েছি। পাসপোর্ট করতে হবে বলাতেই বেঁকে বসলো। সে কোনভাবে আমাকে ছেড়ে যেতে চায়না। অথচ এখন তার কাজের সময়, আমার সাথে থাকলে কিচ্ছু হবেনা। দেশের বাইরে গেলে নিজের ভাই ব্রাদারদের বলে একটা ব্যবস্থা করে দিতাম। সে কোনভাবেই রাজী নয় আমাকে ছেড়ে থাকতে। প্রচুর বিরক্তি নিয়ে বহু ভালবাসার সমাধি ঘটেছে অতীতে। মেহেদী একটু আলাদা, ও লেখাপড়া করেনি। তবে তার সততা এবং দায়িত্ববোধে মুগ্ধ আমি। দোয়া করি মেহেদী ভাল থাকুক। ভবিষ্যতে কি ঘটবে জানিনা, জীবনের লম্বা জার্নিতে এখন মেহেদীর কাছ থেকে ভালবাসার আসল রং পেয়ে খুব ভাল লাগছে। কোন অর্থসম্পদ ছাড়াই ছেলেটা এই মূহুর্তে আমার দেখা সবচেয়ে সমৃদ্ধ সুখী মানুষ। ভালবাসা অবিরাম.”

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=2732140807048545&set=a.1406548869607752&type=3&theater