নিরাপদ সড়ক, জনপ্রত্যাশা

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

নিরাপদ সড়ক, জনপ্রত্যাশা

জুবায়ের আহমেদ:

আজ ২২ অক্টোবর নিরাপড় সড়ক দিবস। প্রতি বছর দিনটিকে নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হলেও সড়ক কিছুতেই পথচারী-যাত্রীদের জন্য নিরাপদ হচ্ছে না। নিয়মিতই ঝড়ছে বহু তাজা প্রাণ, স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে পরিবারের। প্রত্যেকটি মৃত্যুই মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হয়। তবে আমাদের সকলেরই আশা থাকে যেন মৃত্যুটা স্বাভাবিক ভাবে হয়। যেকোন দূর্ঘটনার মধ্যে সড়ক দূর্ঘটনাটাই আমাদের দেশে অনেক বেশি। প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, অনলাইন নিউজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের কল্যাণে প্রতিদিনই বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও দূর্ঘটনায় প্রাণহাণির সংবাদ শুনা যাচ্ছে। বিগত কয়েক বৎসর যাবত তা মহামারি আকার ধারণ করেছে। সড়ক পথে পরিবহনের মাধ্যমে যাতায়াত করে প্রত্যেকটি মানুষই নিজের কর্ম সম্পাদন করে কিংবা কেউ কেউ শহর থেকে গ্রামের বাড়ী কিংবা ভ্রমনের উদ্দেশ্যে একেক জায়গায় যাতায়াত করে। কিন্তু একটি দূর্ঘটনা মাত্র একটি ব্যক্তির মৃত্যু, অঙ্গহানি, পঙ্গুত্ব বরণই নয়, একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না।

 

বিশ্বরোড কিংবা লোকাল রোডে যাতায়াতের সময় ব্যক্তিগত ভাবে যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, গাড়ীর ড্রাইভাররা এক হাতে সিগারেট অপর হাতে ড্রাইভিং করছে এবং অপর একটি গাড়ীকে অতিক্রম করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। পাশাপাশি বা সামনে থাকা গাড়ীকে অতিক্রম করার বিষয়টি যেন তাদের প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে যাত্রীরা তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ড্রাইভারকে নানা ভাবে প্ররোচিত করে। যাত্রীরা ড্রাইভার হেলপারদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করে বিভিন্ন মন্তব্য ছুড়ে দেন। যেন ড্রাইভার ও হেলপারদের জন্মই হয়েছে যাত্রীদের কটু ও বিশ্রি ব্যবহার শুনার জন্য। ড্রাইভার-হেলপার-যাত্রীদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব ভালো ভাবেই লক্ষ্য করা যায়।

 

বাংলাদেশের সবগুলো বিশ্বরোড মিলিয়ে হাতগুনা কয়েকটি পরিবহন আছে যারা নিরাপদ ভ্রমনের অঙ্গীকার দেয় ও রাস্তায় তা বাস্তবায়ন করে। অধিকাংশ পরিবহনগুলোই পথে পথে যাত্রী নেয় এবং শেষ সময়ে যাত্রীদের আহŸানে কিংবা ড্রাইভারের নিজের ইচ্ছায় গন্তব্যস্থানে পৌঁছানোর জন্য এমন গতিতে গাড়ী চালায় যা অনাকাঙ্খিত। এছাড়াও মহানগরী-জেলা-উপজেলা শহরগুলোর রাস্তাতেও ভাঙ্গা রাস্তা, ড্রাইভারদের তাড়াহুড়া এবং পথচারীদের অসতর্কতার কারনে নিয়মিতই ঘটছে দূর্ঘটনা। বাংলাদেশের বিশ্বরোডগুলো যেভাবে চারলেনে উন্নীত সহ আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, সারা দেশের আনাচারে কানাচ্ছের রাস্তাগুলোও সেভাবে আধুনিকায়ন করতে হবে। পথচারীদের পারাপারের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো তথা দুই-তিন-চার রাস্তার মোড়ে গতিরোধক নির্মাণ ও এর উপর দিয়ে পথচারীরা যাতে রাস্তা পাড় হতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন রেজিষ্ট্রেশন, নবায়ন সহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দ্রæততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দিতে হবে, রাস্তায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিগন কর্তৃক চালকদের হয়রানী বন্ধ করতে হবে। দ্রæত গতিতে চালানোর জন্য ড্রাইভারকে প্ররোচিত করা কিংবা অন্য গাড়ীকে অতিক্রম করার যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

 

দূর্ঘটনা কখনোই কারো কাম্য নয়। দূর্ঘটনা শুণ্যের কোটায় নামিয়ে আনাও সম্ভবপর নয়। তথাপিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলোর দিকে গভীর নজর দিয়ে চার লেন বিশিষ্ট রাস্তা নির্মাণ শুরু করা এবং শুরু হওয়া প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করা এবং গাড়ী চালানো অবস্থায় সিগারেট সহ যেকোন প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়া নিষিদ্ধ করা এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়ন করা অবশ্য জরুরী। পাশাপাশি যাত্রীরা ড্রাইভারদেরকে চাপ প্রয়োগ পরিহার করা এবং ড্রাইভারদেরকেও রাস্তায় অপর গাড়ীর সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া বন্ধ করতে হবে। সিগারেট সহ যেকোন প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়া বন্ধ করতে হবে। তাহলেই হয়তো সড়ক দূর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। অকালেই ঝড়ে যাবে না অনেক তাজা প্রাণ। নিঃস্ব হবে না কোন পরিবার, মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন হারা হতে হবে না কাউকে।

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)।
কাটাবন, ঢাকা।