আলেমের দ্বারা বর্বোরোচিত কাজ, নির্ভরতা কোথায়

প্রকাশিত: ১:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

আলেমের দ্বারা বর্বোরোচিত কাজ, নির্ভরতা কোথায়

জুবায়ের আহমেদ:

মুসলিম পরিবারে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করার পর মা-বাবা, দাদা-দাদি স্বপ্ন দেখে শিশুটিকে নিয়ে। বহু স্বপ্নের মাঝে একটি হলো শিশুটিকে মাওলানা-কোরআনে হাফেজ বানাবে। অভিভাবকগন তাদের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে শিশু সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠান। এক সময় শিশুটি পিতা মাতার স্বপ্নকে নিজের মধ্যে লালন করে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং ইসলামের সেবা সহ শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। সবচেয়ে বড় বিষয় ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিটি নৈতিক চরিত্র গঠনের শিক্ষা লাভ করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হিসেবে মহান আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে জীবন পরিচালনা করার জন্য ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হন। আলেম-ওলামা হিসেবে অন্যান্যদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করানোর লক্ষ্যে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত হন।

 

 

একজন মানুষের শিক্ষা যেমনই হোক, তার মধ্যে জাগতিক লোভ লালসা, কাম ভাব থাকবেই। তা পূরণ করতে হবে ধর্মীয় ও সামাজিক পবিত্র বন্ধন বিবাহের মাধ্যমেই। মনের মধ্যে জাগ্রত হওয়া লোভ লালসা যদি হয় অবৈধ, তা পরিহার করা উত্তম মানবের কাজ। বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া ব্যক্তিগনকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা বেশি জরুরী। কেননা ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করা ব্যক্তি মাত্রই দুনিয়ার প্রচলিত আইনে শাস্তির পাশাপাশি পরকালীন শাস্তির বিষয়েও অধিক জ্ঞানার্জন করে। পরকালীন শাস্তির ভাবনায় তিনি অস্থির থাকবেন, কেননা তিনি সে শিক্ষা অর্জন করেছেন অন্যান্যদের চেয়েও ভালো ভাবে। অন্যান্য ব্যক্তিগনের চেয়েও তাকে আলাদা হতে হবে। কেননা তিনি বিবেকবান ব্যক্তি হিসেবে সর্বজন বিদিত। তিনি সমাজে উত্তম ব্যক্তি। আলেম-ওলামাদের নবী রাসুলগনের ওয়ারিশ বলা হয়েছে। কাজেই তাকে হতে হবে তেমন চরিত্রের অধিকারী।

 

 

শুরুতেই বলেছিলাম একজন শিশু আলেম হওয়ার ইসলামী শিক্ষা গ্রহণের পথে পা বাড়ায় পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্যান্যদের আগ্রহের ভিত্তিতে। এই সকল কোমলমতী শিশুদের অধিকাংশ শিশুকালেই পিতা-মাতাকে ছেড়ে মাদ্রাসায় পড়ালেখার পাশাপাশি অবস্থানও করেন। সেখানে দায়িত্বরত শিক্ষকও এক সময় তাদের মতোই শিশুকাল থেকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আজকে শিক্ষক হয়েছেন। সেই শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই যখন মাদ্রাসায় অবস্থান করা কোমলমতি শিশুদের উপর শারীরিক মানসিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি ঠান্ডা মাথায় বলবৎকার করেন, তখন তা হয়ে উঠে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ঠ কাজের একটি। এটি মেনে নেওয়ার মতো কাজ নয়। এটি কোন আলেমের কাজ হতে পারে না। শুধুমাত্র বলৎকারই নয়, কন্যা শিশু কিংবা প্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রীদেরও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। যেকোন ব্যক্তি দ্বারাই এমন ঘৃণিত কাজ কাম্য না হলেও একজন ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম-শিক্ষক দ্বারা এমন কাজ দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ বলেই আমি মনে করি।

 

 

বাংলাদেশ সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। যেহেতু মুসলমানের সংখ্যা বাংলাদেশে বেশি। সেহেতু ভালো-মন্দ সব কাজেই মুসলমানের সংখ্যা স্বাভাবিক ভাবেই বেশি হবে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ইসলামী জীবন যাপন করা এবং ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলা আবশ্যিক হলেও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে তফাৎ থাকবেই। বিশেষ করে যারা আলেম-ওলামা তাদেরকে মানুষ সম্মান-শ্রদ্ধা করে। কিন্তু তারা যখন অনৈতিক ও বর্বোরোচিত কাজে লিপ্ত হয়, তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পরকালীন শাস্তির ভয়ে যিনি ইসলামী জীবন যাপনের অঙ্গীকার নিয়ে আলেম হয়েছেন তিনি ধর্ষণ-বলৎকারের মতো বর্বোরোচিত ও জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকবেন, তা কোন ভাবে কাম্য না হলেও বাংলাদেশে এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে।

 

 

একজন আলেম যেখানে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী জীবন যাপন করবেন। সেখানে তিনি কেনো বলৎকার করেন, কেনো একটি শিশুর উপর এমন পাশবিক নির্যাতন চালান, তাহার মনে কি পরকালীন শাস্তির ভয় আসে না? তিনি কি এমন জঘন্য অপরাধের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় শাস্তির কথা মাথায় রাখেন না? কেনো তিনি এমন অপকর্ম করেন। এর কোন জবাব থাকতে পারে না, শুধুমাত্র ভোগের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া। শুধুমাত্র আলেমরাই নয়, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এমন কাজ করেন, করতে পারেন। তবে ধর্মীয় লেবাসধারীদের, বিশেষ করে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় জড়িত থাকা ব্যক্তিদের এমন কাজ বড্ড পৈসাশিক। বলৎকারের মতো কাজে যেসকল ব্যক্তিরা জড়িত থাকবে, তাদেরকে দ্রæততম সময়ের মধ্যে ধৃত করে প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে এসকল অপরাধীদের নিবৃত করা জরুরী।

 

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন, ঢাকা
মোবাইল-০১৯৬৬-২৯৪৯৯০

 

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!