কৃষি খাতে কাঙ্খিত উন্নতির জন্য কৃষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি জরুরী

প্রকাশিত: ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

কৃষি খাতে কাঙ্খিত উন্নতির জন্য কৃষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি জরুরী

জুবায়ের আহমেদ:

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ নাগরিক গ্রামে বসবাস করে। এসব মানুষের জীবিকার মূল উৎস কৃষি। বাংলাদেশের প্রখ্যাত যত ব্যক্তিত্ব আছে, তাদের অধিকাংশই উঠে এসেছেন কৃষক পরিবার থেকে। বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই কৃষক-শ্রমিক ও শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন, তাদের অধিকার আদায়ের দাবীতে কাজ করেছেন মৃত্যু অবধি। কৃষকদের উন্নয়ন ব্যতীত বাংলাদেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুও বলে গেছেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে কৃষিতে গুরুত্ব দিতে হবে”। কিন্তু কৃষিতে কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। পুরোপুরি কৃষিতে নির্ভরশীল মানুষগুলোও কৃষি কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছে। সন্তানদের পড়ালেখা করানোর মাধ্যমে বড় চাকুরীর আশায় কৃষিকাজ থেকে দূরে রাখছে।

 

 

মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম খাদ্য। মানুষের খিদে আছে বলেই কাজ করে। কেউবা পেটের ক্ষুধা নিবারনের জন্য হাত পারে, চুরি করে। ক্ষুধা মেটানোর জন্য যে খাদ্য প্রয়োজন, সে খাদ্যের সকল উপাদানের যোগান দেয় কৃষকরা। বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি কাজ এতোটাই সীমিত হয়ে গেছে যে, মসলাজাতীয় ভোগ্য পন্য ছাড়াও আরো বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আমরা নিজেরাই নিজেদের সকল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিঠিয়ে বিদেশে রপ্তানী করার অবস্থায় পৌঁছার বিপরীতে আমরা এখন নামেই কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আছি। কিন্তু কৃষকদের কাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা এবং কৃষিকে মর্যাদার পেশার বিপরীতে কৃষি কাজ “মূর্খ্য-গেয়ো” মানুষের পেশা হিসেবে দেখার কারনে কৃষি কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। নিজে কৃষি কাজ করলেও সন্তানদের কৃষক নয়, অফিসার বানানোর স্বপ্ন দেখছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে এটাই প্রতিষ্ঠিত যে, উচ্চ শিক্ষিত হয়ে অফিসার হলেই সে মানুষের মতো মানুষ, আর কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলে সে নিচু মানুষ। কতেক শিক্ষিত মানুষের ভাষায় “ক্ষ্যাত”। অথচ কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী তাঁর লেখায় কৃষকদের উচ্চ মর্যাদা দিয়ে বলেছেন, “সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা”।

 

 

সম্ভাবনার কৃষিখাতে কৃষকরা সরকার থেকে পূর্ণ সহায়তা না পাওয়ার পাশাপাশি আরো দুটি বিষয় জড়িত, তা হলো প্রবাসে চাকুরী ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি। পূর্বে যারা কৃষি কাজে নিয়োজিত ছিল, তাদের সন্তানকে কৃষি কাজে নিয়োজিত না করে প্রবাসে পাঠাচ্ছেন এবং লেখাপড়া শিক্ষাচ্ছেন। আমাদের দেশে ও সমাজে এটিই প্রতিষ্ঠিত যে, কৃষি হলো মূর্খ্য মানুষের কাজ। শিক্ষিত মানুষ এসব কাজ করবে না, শিক্ষিত মানুষ চাকুরী করবে কিংবা বড় ব্যবসা করবে। সমাজে এই ভ্রান্ত ধারণা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলেই কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষিতে কাঙ্খিত উন্নতির ফলে দিন দিন অবনতি ঘটছে। এক সময় কৃষি কাজে নিয়োজিত থাকা পিতারা তাদের সন্তানদের নিজেদের মতো মূর্খ্য চাষা বানাতে চান না, এই ধারণা নিয়ে প্রবাসে কিংবা শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠিয়ে কৃষি থেকেই দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন। কৃষি মূর্খ্য মানুষের কাজ নয় কিংবা শিক্ষিত মানুষের কাজ শুধুই চাকুরী ব্যবসা নয়। শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় জ্ঞানার্জনের জন্য, নির্দিষ্ট কোন পেশায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য নয়। একজন শিক্ষিত মানুষ চাইলেই কৃষি কাজ করতে পারে, যেকোন পেশায় নিয়োজিত হতে পারে। এতে ছোট হওয়ার কিছু নেই।

 

 

বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে ভোগ্য পণ্যের যথেষ্ট উৎপাদন নেই। দিন দিন উৎপাদনের হার কমছে। জিডিপিতে দিন দিন কমছে কৃষি খাতের অবদান। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য কৃষিতে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে, তারা সমাজের নি¤œ শ্রেণীর নয় বরং দেশের অর্থনীতিতে ভ‚মিকা রাখা এবং দেশের নাগরিকদের খাদ্য চাহিদা মেটানোর মতো বৃহৎ কাজ করা সুনাগরিক হিসেবে তাদেরকে সম্মানজনক শ্রেণীতে অন্তভর্‚ক্ত করার মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পূর্বক কৃষিতে কাঙ্খিত উন্নয়ন এবং কৃষি কাজ কোন ছোট কাজ নয়, শিক্ষিত সহ সকল মানুষের পেশা হতে পারে কৃষি, এটি মর্যাদাকর পেশা হিসেবে মানুষের মাঝে ইতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার সহ সকল শ্রেণীর নাগরিকদের কার্যকর ও ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখতে হবে।

 

 

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন, ঢাকা।
এবং
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

 

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!