মুজিব বর্ষে ভবঘুরে পুনর্বাসন করা হোক

প্রকাশিত: ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

মুজিব বর্ষে ভবঘুরে পুনর্বাসন করা হোক

জুবায়ের আহমেদ:

বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিকই দরিদ্র, তবে এ সকল দরিদ্র মানুষের অধিকাংশেরই পেশা ও ভিটেমাটি থাকলেও ভিটেমাটিহীন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। যাদের অধিকাংশই ভবঘুরে ও ভিক্ষুক, যাদের দিন কাটে শহরগুলোর ফুটপাতে, মাজার, মন্দির, মসজিদের পাশে। ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ দেশের সকল জেলা-উপজেলা শহরেই এমন ভবঘুরে মানুষ দেখা যায় বহু, বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামের ফুটপাত ও মাজারগুলোতে ভবঘুরের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এসকল মানুষজনের অনেকে পরিবার সমেত এবং অনেকে একা একা জীবন যাপন করে, মানুষের সহযোগিতায় চলে যাদের জীবন। মৌলিক অধিকার ভোগ করে বসবাস করা মানুষজনের মতো তাদের জীবন নয়, তাদের সে স্বপ্ন থাকলেও পূরণ হচ্ছে না, কেউ এগিয়ে আসছে না। ফুটপাত, মাজার-মন্দিরেই তাদের জীবনের গল্প রচিত হয়। সকল সুবিধা ভোগ করা, উন্নত জীবন যাপন করা এবং এই ভবঘুরে লোকগুলো সকলেই সৃষ্টির সেরা জীব হলেও জীবন ধারনের মাঝে কতই না ফারাক একে অন্যের সাথে।

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি রোল মডেল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর, সে লক্ষ্যে কাজও করছেন তিনি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের গৃহ প্রদান সহ নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছেন, যা সকল পর্যায়ের মানুষের কাছ থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

একটি দেশকে এগিয়ে নিতে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলতে দারিদ্রতা দূরীকরণের বিকল্প নেই। সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করলেও ভবঘুরে ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। ভবঘুরে ব্যক্তিরা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করে রাস্তাঘাটে, যাদের অনেকেরই স্ত্রী সন্তান আছে, তারা অনেক বেশি অমানবিক জীবন যাপন করেন। এসকল মানুষরা আজ এক জায়গায় তো অন্যদিন আরেক জায়গায় থাকেন। একটি উন্নয়নশীল দেশের কোন নাগরিক কখনোই এতোটা নি¤œমানের অমানবিক জীবন যাপন করতে পারে না। এ সকল মানুষের কষ্টকর জীবন যাপনের দায় রাষ্ট্র কিংবা নাগরিক সমাজ কখনোই এড়াতে পারে না। একটি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিজেদের উন্নয়নশীল ও আদর্শ দেশ হিসেবে দাবী করতে হলে অবশ্যই দারিদ্রতা দূরীকরণ করতে হবে, বিশেষ করে নিয়মিত রাস্তাঘাটে জীবন যাপন করা নাগরিকদের বাসস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে, সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন ও দেশের অর্থনীতিতে ভ‚মিকা রাখার সুযোগ করে দিতে হবে, তাদের সন্তানদের স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হওয়া, শিক্ষা চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন গরীব দুঃখী মানুষদের অধিকার নিশ্চিত করা, তিনি মৃত্যু অবধি সাধারণ মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের লড়াই করে গেছেন।

 

কাজেই দেশকে এগিয়ে নিতে ও বিশ্বের দরবারে একটি আদর্শ ও অনুকরণীয় রাষ্ট্র হিসেবে তৈরী করতে দেশের সবচেয়ে অনগ্রসর ও নি¤œমানের অমানবিক জীবন যাপন করা ভবঘুরে মানুষদের বাসস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে, সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন ও দেশের অর্থনীতিতে ভ‚মিকা রাখার সুযোগ করে দিতে হবে, তাদের সন্তানদের স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হওয়া, শিক্ষা চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মুজিব বর্ষ অর্থবহ এবং চির স্মরণীয় করে রাখতে মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে ভবঘুরে ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবী।

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাটাবন ঢাকা।
এবং
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget
error: Content is protected !!