মধুমাখা স্মৃতি

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

মধুমাখা স্মৃতি

ছোটবেলায় জমির মাঝখানে গাছ দেখলেই ভাবতাম ভূত প্রেত, জিন থাকে এগুলোতে। দিনের বেলায়ও অনেক সময় কাছ দিয়ে যেতাম না। রাতের বেলায় মাছ ধরতে গেলে দেখতাম গাছের উপর আগুলের উল্কা পরছে। কি যে ভয় পেতাম।

এক সময় ভয় কেটে যায়। দিনের বেলায় চকে (কৃষি জমি) গেলে গাছে উঠতাম। বসে আড্ডা দিতাম। তবে কাক, ঈগলের বাসা থাকতো অনেক।

জমির মাঝখানে একটা গাছ মানে, রোদে পুড়ে কাজ করা কৃষকদের রোদকে ফাঁকি দিয়ে একটু শান্তির পরশ পাওয়া। বাড়ী থেকে নেওয়া খাবারগুলো গাছের ছায়ায় বসে খাওয়া।

আগে দূর দূরান্তে হেঁটে যেতে হতো। শৈশবে নানার সাথে কত হেঁটেছি বলার মতো না। কয়েক মাইল পথ হেটে যেতাম আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে, বড় বাজারে। রাস্তায় এমন গাছ থাকলে জিরিয়ে নিতাম কয়েক মিনিট। বর্ষাতেই একটু রেহাই হতো, ট্রলার বা নৌকায় যাতায়ত করা যেতো।

গাছ মানুষকে ছায়া দেয়, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। জমির মাঝে এসব গাছ কেউ পরিকল্পিত ভাবে রোপন না করলেও কোন না কোন ভাবে গাছগুলো বেড়ে উঠে মানুষকে ছায়া দিতে, পাখিদের ঘর বেধে থাকার সুবিধা দিতে।

এখনতো এক কিলোমিটারও হাটা হয় না, ব্যতিক্রম কিছু না হলে। গ্রামে গেলেও জমিতে যাওয়া হয় কম। আবার জমির মাঝখান দিয়ে কাঁচা পাকা রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্তার উন্নতিকরণ করা হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে কৃষি জমি বাড়ীতে রুপান্তর হচ্ছে। তাই সড়ক ফেলে জমির আইল ধরে আর হাটা হয় না। গ্রামে গিয়ে সব পেলেও সবকিছুতে আধুনিকায়ন ও মানুষের বসবাসের জন্য বাড়ী নির্মাণের ফলে শৈশবের মতো করে আর কিছু উপভোগ, অনুভব করা যায় না।

error: Content is protected !!